ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

সংবিধানে মৌলিক সংশোধন আনা হলে গণভোট হবে: বিশেষ কমিটি


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:০৬ পিএম

দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানে যদি কোনো ধরনের মৌলিক কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তন বা সংশোধন আনা হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের সরাসরি রায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ওই সংশোধনী চূড়ান্ত করার জন্য দেশজুড়ে গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার সাধনের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি দেশের প্রথিতযশা সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক ও দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি ব্যাপক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই সময় বাম ধারার চারটি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর না করলেও, সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাক্ষর প্রদান করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা বিবর্তনে এই স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্য থেকে ৮টি দল বর্তমানে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের অংশ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


প্রণীত জুলাই সনদের মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধানের বিভিন্ন ধারা ও কাঠামোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রস্তাবগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করেছিল। পরবর্তীতে সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় জয়ী হয়। ওই আদেশের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার কথা ছিল এবং পরিষদ গঠিত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানের যাবতীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল।


তবে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নাটকীয় পরিবর্তন আসার পর বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সেই পূর্বনির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করেনি। এমনকি দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও এই পরিষদের সদস্য হিসেবে কোনো ধরনের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ফলে বিগত সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের এক বিশেষ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় এই কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী দল সেই আহ্বান সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কোনো নাম জমা দেয়নি। শুধু তাই নয়, বিরোধী দল শুরু থেকেই এই বিশেষ কমিটিকে পুরোপুরি বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করে আসছে।


এমন এক জটিল ও মেরুকরণমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল যে, দেশের সংবিধানের মৌলিক বা কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে হলে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, বরং তা জনগণের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গণভোটের মুখোমুখি করা হবে। কমিটির এই দূরদর্শী ঘোষণা আগামী দিনে দেশের সাংবিধানিক সংস্কারের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর