সাভারে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। প্রতিদিন জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেক রোগী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মধ্যে গড়ে ৫ থেকে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় বর্তমানে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. ফজলে বারী। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট হাসপাতালে মজুদ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন, তাদের পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গুর মৌসুমে সাধারণ জ্বরকেও অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর প্রাথমিক উপসর্গের সঙ্গে সাধারণ জ্বরের অনেকটা মিল রয়েছে। জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু রোগীর চাপ ও চিকিৎসা উপকরণের মজুদ সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. ফজলে বারী বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর চাপ রয়েছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে তাদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে।”
তবে শুধু হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাড়িঘরের আশপাশ, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিয়মিত বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
সাভারে প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডাক্তার মো. ফজলে বারী বলেন, চিকিৎসার জন্য স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত থাকলেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।