ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬৬ কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ধানের শীষ টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব ঐক্য সরকার নাকি আবার নির্বাচন? ইসরায়েলের সামনে এখন ৩টি পথ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন আসামি হাজিরা ডিজিটাল করতে পারলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে: আইনমন্ত্রী ময়নাতদন্ত ছাড়া তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সুইসাইড নয়, পরিকল্পিত হত্যাঃ পাইলট তাহসিফের বাবার বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৩০০ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ


আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:১৮ পিএম

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে বক্তব্য প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন এই রিট আবেদনটি (রিট পিটিশন নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬) দায়ের করেন। রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।


রিট সূত্রে জানা যায়, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংগুলোকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তদন্ত বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখা হয়। পাশাপাশি, পূর্বে যেসব বক্তব্য বা তথ্য প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক দাবি করেছিলেন যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে দুদক ‘প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে’ এবং অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষের চূড়ান্ত ফলাফল হতে পারে; অনুসন্ধানের সূচনালগ্নেই এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রচার করার কোনো আইনি এখতিয়ার দুদকের নেই।


পরবর্তীতে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সংবাদমাধ্যমের কাছে ওই বক্তব্যকে মুখ ফসকে বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে স্বীকার করেন। কিন্তু গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও দৃশ্যমান প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।


রিটে আসিফ মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপপ্রয়াস। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের যে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, তা মূলত প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের একটি আইনি রায়ের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব আদেশে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর কার্যকর হয়। ফলে এসব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকা বাস্তব ও আইনগতভাবে অসম্ভব।


আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণার পর তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ধুলিস্যাৎ করার অপকৌশল হিসেবেই এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে বলে রিটে অভিযোগ করা হয়েছে। রিটকার্ড অনুযায়ী, দুদকের এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জন্য সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর