অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে গত শনিবার রাতে সংঘটিত ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও সংলগ্ন এই এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বিভিন্ন স্তরের আসামিদের একে একে পাকড়াও করে এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নিউগিনি প্রপার্টিজের করা মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিক। এছাড়া এ মামলায় আরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্নাকে।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হঠাৎ এই ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়। ওই দিন রাতে ঘটনাস্থল থেকেই ধারালো ছোরাসহ দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এই ঘটনার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে জানান, স্টুডিওর জমির মালিক নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমি মালিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে হামলার পরপরই গত শনিবার রাত পৌনে দুইটায় 'ব্রাউনফিশ স্টুডিও'-র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির বলেন, "একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।" এ সময় তিনি জোরালো অভিযোগ করে জানান, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক ছিলেন এবং তাদের পক্ষ থেকে হয়তো পূর্বে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।