ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিসে ডিসি: দুর্নীতি রোধে নতুন বার্তা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ২:০৬ পিএম

আব্দুল কাইয়ুম খান, বিশেষ প্রতিনিধি

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নানা অনিয়মের জাল ছিন্ন করতে এবার সাধারণ সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে রাজধানী ঢাকার উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন ঢাকার মাননীয় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ফরিদা খানম, যুগ্ম সচিব। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের আরামদায়ক চেয়ার ছেড়ে মাঠপর্যায়ে তাঁর এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উপস্থিতি প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে যে অকথ্য হয়রানি ও দুর্নীতির মুখোমুখি হতে হয়, তা দীর্ঘদিনের এক পুরোনো ব্যাধি। সাধারণ ফাইলপত্র নড়াচড়া থেকে শুরু করে নামজারি, খাজনা প্রদান কিংবা জমির কাগজ উত্তোলনে পদে পদে ঘুষ ও দালালের দৌরাত্ম্য যেন প্রাত্যহিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমন এক বাস্তবতায় যখন খোদ একজন জেলা প্রশাসক নিজে সেবাগ্রহীতার বেশ ধারণ করে মাঠের চিত্র যাচাই করেন, তখন তা কেবল প্রশাসনিক মনিটরিংই নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের উদ্যোগ প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করে।

 

দুর্নীতি নির্মূল ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এখনই। ঢাকা জেলার অধীনস্থ সকল সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি দপ্তরে কর্মরত জনবলের সম্পদের বিবরণী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা অনলাইনে উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হলে তা জনসমক্ষে স্বচ্ছতার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা রাতারাতি বহুলাংশে কমে আসবে বলে সচেতন মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।

 

প্রশাসনের দুর্নীতিবিরোধী এমন কঠোর পদক্ষেপের নজির এর আগেও দেখা গেছে। এর আগে গাজীপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব নুরুল করিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সচিব মহোদয় কাশিমপুর তহশিল অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ওই পরিদর্শনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে একদিনেই ওই অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সেই সাহসী ও জিরো টলারেন্স নীতি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং পুরো ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থায় একটি কঠোর ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এবার রাজধানীর বুকে এমন সাহসী উদ্যোগ নিলেন ঢাকার বর্তমান জেলা প্রশাসক।

 

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ফরিদা খানম ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই সাহসী ও কর্মনিষ্ঠ ভূমিকা নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর। রাষ্ট্রের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা যদি দাপ্তরিক প্রথা ভেঙে এভাবেই নিয়মিত মাঠে নেমে আসেন এবং আকস্মিক ছদ্মবেশী পরিদর্শন পরিচালনা করেন, তবে প্রশাসনের আসল রূপ ও মাঠের বাস্তব চিত্র তাঁদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যা সাধারণত সাধারণ ফাইলের পাতায় বা অনুচরদের ব্রিফিংয়ে ঢাকা পড়ে থাকে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘুষ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো মেগাসিটির বৃহৎ সরকারি অফিসগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যদি এই বিশেষ পথ ও কৌশল অবলম্বন করেন, তবে দেশ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব হবে।

 

উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছদ্মবেশে পরিদর্শনের সময় মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় সুনির্দিষ্ট কী ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ ভূমি অফিসে কী পরিমাণ জগাখিচুড়ি অবস্থা ও জনদুর্ভোগ বিরাজ করছে, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন এবং এটি ওপেন সিক্রেট। এ ধরনের গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান যদি কেবল একদিনের চমক না হয়ে ঢাকা জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়মিত ও রুটিন মাফিক পরিচালনা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং সরকারের ভূমি সেবা প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব ও গণমুখী রূপ লাভ করবে।

 

প্রশাসনিক কার্যক্রমে এমন গতিশীলতা, সততা ও সাহসিকতার নিদর্শন স্থাপন করায় ঢাকা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন সর্বস্তরের সেবাগ্রহীতা ও সচেতন নাগরিকরা। মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে যদি এই ধরনের জনমুখী সংস্কার ও নজরদারি জোরদার করা হয়, তবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম ও সহজতর হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর