রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনায় বর্তমান সরকার গভীরভাবে বিব্রত ও মর্মাহত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের কাউকেই পার পেতে দেওয়া হবে না। পুলিশের নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তীর্যক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের মুখ ও পরিচয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কেন দৃশ্যমান গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে না—এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন যে পুরো প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে অত্যন্ত মূল্যবান ও সহায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও তিনি পরিষ্কার করেন যে, গণমাধ্যমের এই অনুসন্ধান কখনোই পুলিশি তদন্তের বিকল্প হতে পারে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিলের জন্য পুলিশের নিজস্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জোরালো সুরে বলেন, পুলিশ যখন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার গভীরে প্রবেশ করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে এবং অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আইনগতভাবে সন্তুষ্ট হবে, তখন অভিযুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিকে অব্যশই এই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এ বিষয়ে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে চলমান বিভিন্ন অপপ্রচার ও গুজবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদস্থ ব্যক্তির নাম ও ছবি অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে একধরনের অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির অপচেষ্টা চলছে। তবে তিনি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, সত্য তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে যুক্তিভিত্তিক সমালোচনা করা যেকোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে এবং লজিক্যালি তার সমালোচনা করাও স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ ও উদ্দেশ্যমূলক অপতথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো রোধ করতে হবে। অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ কঠোরহস্তে দমনের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এই আইন চূড়ান্ত হলে আইনি কাঠামোর ভেতর থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।