দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরশহরের সাজিউড়া মোড় সংলগ্ন জেলা পরিষদের মূল্যবান সম্পত্তি অবশেষে সার্ভে বা মাপজোখের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আধুনিক সার্ভে প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দিনভর চলা এই মাপজোখের পর দেখা যায় যে সংলগ্ন সুহাল সুপার মার্কেটের নিয়মিত ব্যবহারের ভেতরে জেলা পরিষদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর মার্কেট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে দখলকৃত ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা পরিষদের এই সম্পত্তি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জেলা পরিষদের কোনো সম্পত্তি বা জায়গা কেউ অবৈধভাবে দখল বা কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের এই সরকারি সম্পদ রক্ষা করার স্বার্থে নিয়মিতভাবে জেলা পরিষদের অন্যান্য সম্পত্তিগুলোও চিহ্নিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও একটি দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে জানান যে, উদ্ধারকৃত জেলা পরিষদের এই খালি জায়গায় ভবিষ্যতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আধুনিক বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে এবং তা সুনির্দিষ্ট নিয়মে ভাড়ায় দেওয়া হবে। এর ফলে একদিকে যেমন জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন আয়ের প্রশস্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দীর্ঘকাল পর প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতের দিনগুলোতে জেলা পরিষদের প্রতিটি সম্পত্তির সঠিক ও সুষম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।