দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দ্ব্যর্থহীন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিরাপদ করতে এবং অপরাধের শিকড় সমাজ থেকে উপড়ে ফেলতে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি অভিযান আরও বেশি জোরদার করা হবে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় ছত্রছায়া বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং অপরাধী মাত্রই তাকে আইনের কঠোর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
চাঁদাবাজদের সুনির্দিষ্ট তালিকা সরকারের হাতে রয়েছে মর্মে তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি রুটিন কাজের অংশ মাত্র। এই তালিকাগুলোতে কেবল চাঁদাবাজরাই নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের নামও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে বড় বিষয় হলো নতুন কোনো তালিকা তৈরি করা হলো কি না, তার চেয়েও বড় কথা হলো তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। আপনারা গণমাধ্যমের পাতায় নিয়মিত দেখতে পাচ্ছেন যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব পেশাদার অপরাধী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের পুলিশ নিয়মিত গ্রেপ্তার করছে। জনস্বার্থে এই সাঁড়াশি অভিযান কোনোভাবেই থামবে না, বরং অপরাধ দমনে তা আরও বেগবান ও জোরদার করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে পুঁজি করে জোরপূর্বক জমি দখল ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপকর্মের বিষয়ে দেশের ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের গভীর উদ্বেগের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অপরাধীর কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না এবং আমরা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। বর্তমান প্রশাসন যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই গণ্য করছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত একটি ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার মধ্যরাতে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরকারের বা প্রশাসনের কোনো দায় রয়েছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, প্রকৃত দায়ভার তখনই বর্তায় যখন প্রশাসন কোনো ঘটনার পর তাৎক্ষণিক কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না কিংবা পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ব্যর্থতা ছিল না, সরকারের দিক থেকেও কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক প্রসিডিং শুরু করা হয়েছে।
মিরপুরের ওই ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে করা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যার বা যাদেরই সম্পৃক্ততার সত্যতা মিলবে, তাদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।