চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল সচিবালয় অভিমুখে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন দৈনিক মজুরিভিত্তিক বা মাস্টাররোল কর্মচারীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা চালালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কঠোরভাবে বাধা দেয়, যার ফলে পুরো সচিবালয় চত্বরে চরম উত্তেজনা ও মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা তাদের চাকরি স্থায়ী করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে এদিন রাজপথে নেমে পড়েন। তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন শত শত আন্দোলনকারী কর্মচারী ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত অবস্থান নেয়। মূল ফটক ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি বাধার মুখে আন্দোলনকারীরা আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি নিয়মিতকরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের দাবিতে অনেক দিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন এসব মাস্টাররোল কর্মী। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা আশ্বাস না আসায় তারা আজ সরাসরি সচিবালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এই ধস্তাধস্তি ও মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সচিবালয়ের চারপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখে।
সচিবালয়ের মতো অতি সংবেদনশীল এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জোনে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। তবে আন্দোলনকারী কর্মচারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সচিবালয় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।