কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় তীব্র জনবল সংকটের কারণে নৈশকালীন বিদ্যুৎ সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বা রাতের বেলায় কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা লাইনে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে স্থানীয় গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। জরুরি হটলাইন কিংবা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রাতে কোনো ধরনের সাহায্য মিলছে না বলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কুমারখালী শাখা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পুরো পৌর ও উপজেলা মিলিয়ে তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। অথচ এত বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত লাইনম্যান রয়েছেন মোটে দুজন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাতের বারের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে রাত দশটার পর কোনো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তা ঠিক করার মতো ন্যূনতম জনবল অফিসে উপস্থিত থাকে না।
দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন এই নৈশ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও প্রবীণরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে, ছোটোখাটো কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া প্রতিনিয়ত ভোল্টেজের তীব্র ওঠানামার কারণে বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি পুড়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এই চরম সংকটের বিষয়ে ওজোপাডিকো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নতুন কোনো জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ২৪ ঘণ্টা তিনটি শিফটে নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখতে অন্তত ছয়জন দক্ষ কর্মী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এমনকি গ্রাহকদের জরুরি ফোন কল রিসিভ করার জন্যও আলাদা কোনো জনবল নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত উত্তরণের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এদিকে সাধারণ মানুষের এই তীব্র দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নৈশকালীন এই জরুরি সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকরী ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।