ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা আসিয়ান কাপের ফাইনালে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস ও বড় ব্যবধানের পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ঐতিহাসিক গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে থমাস ডুলির শিষ্যরা ৯–২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছেড়েছে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে।
খেলার শুরুতেই মাত্র ১১তম মিনিটে স্বাগতিকদের আক্রমণে প্রথম কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের জাল। এরপর গোলের সেই অপ্রতিরোধ্য ধারা পুরো ম্যাচ জুড়েই বজায় রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া। প্রথমার্ধের খেলা শেষেই ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলোয়াড়রা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের দিকে বাংলাদেশের পক্ষে আক্রমণভাগে দারুণ দুটি গোল পরিশোধ করেন উদীয়মান দুই ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ইমন শাহরিয়ার। তাঁদের এই দুটি গোল পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমালেও ৯–২ গোলের বড় হার থেকে দলকে রক্ষা করতে পারেনি।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এই বিশাল ব্যবধানের হার বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ৫টি দশক আগের এক লজ্জাজনক স্মৃতিকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে মারদেকা কাপে হংকংয়ের কাছে ৯-১ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচোনে স্বাগতিক দলের মুখোমুখি হয়ে ৯-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা।
জাকার্তার মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধেই যখন ইন্দোনেশিয়া ৬-১ গোলে এগিয়ে যায়, তখন পুরোনো সেই রেকর্ডের কালো ছায়া জেঁকে বসেছিল ডাগআউটে। তবে শেষ পর্যন্ত ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ইমন শাহরিয়ারের সৌজন্যে প্রতিপক্ষের জালে দুটি বল প্রবেশ করাতে সক্ষম হওয়ায় সেই ঐতিহাসিক দীর্ঘতম লজ্জার রেকর্ড থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশ ফুটবল দল।
আকাশজমিন / আরআর