বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে আসছে বড় ধরনের কোচিং পরিবর্তন। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে অভিজ্ঞ কোচ ডেভিড হ্যাম্পের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী দুই বছরের জন্য তাঁর কাঁধে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যা সফলভাবে চলবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিসিবির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৫৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচকে নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি স্থলাভিষিক্ত হলেন সরওয়ার ইমরান-এর, যিনি গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন।
নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেভিড হ্যাম্প সরাসরি অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে ব্রিসবেনে জাতীয় নারী দলের স্কোয়াডের সঙ্গে সরাসরি যোগ দেবেন তিনি। এর আগেও তিনি বাংলাদেশ নারী দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে নেপালে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং ২০২৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি বাংলাদেশ নারী দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে নারী দলের ক্রিকেটারদের টেকনিক ও মানসিকতার সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই বেশ ভালো পরিচয় রয়েছে।
ডেভিড হ্যাম্পের কোচিং ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণিল। এর আগে তিনি ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া স্টেট উইমেন্স টিম এবং মর্যাদাপূর্ণ উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মেলবোর্ন স্টার্সের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে হ্যাম্পের কাজের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে তিনি বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বা এইচপি প্রোগ্রামের প্রধান কোচ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০২৩ সালে জাতীয় পুরুষ দলের নিউজিল্যান্ড সফরেও কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অভিজ্ঞ এই কোচের কৌশলগত দীক্ষায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহল।