ক্রীড়া ডেস্ক
উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের মেলে ধরেছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। প্রাগের ঐতিহাসিক ফর্তুনা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ‘সি’র রোমাঞ্চকর ম্যাচে ১০ জনের চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। সফরকারী দলের হয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন অ্যান্থনি গর্ডন ও অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। মাঠের লড়াইয়ে লাল কার্ডের মতো বড় একটি ঘটনা পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচটি শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে এগোচ্ছিল। দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একে অপরের রক্ষণভাগে হানা দিচ্ছিল। ম্যাচের শুরুর দিকেই দুর্দান্ত এক সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিক চেক প্রজাতন্ত্র। চেক মিডফিল্ডার পাভেল সুলচের নেওয়া জোরালো এবং বিপদজনক শটটি অবশ্য অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। সফরকারীদের হয়ে মরগান রজার্সের চমৎকার একটি শট সরাসরি ডান পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় স্বাগতিকরা। দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের সুবাদে ম্যাচের প্রথমার্ধেই দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
তবে ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট আসে ২৩ মিনিটে। স্বাগতিক শিবিরের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে আসে এই মুহূর্তটি। ইংল্যান্ডের উদীয়মান মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর মারাত্মক ফাউলের ঘটনা ঘটে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) দীর্ঘ পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান চেক মিডফিল্ডার পাভেল সুলচকে। ফলে ম্যাচের দীর্ঘ সময় ধরে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই চালাতে বাধ্য হয় চেক প্রজাতন্ত্র। একজন খেলোয়াড় কম থাকার কারণে কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
সংখ্যাগত এই সুবিধার পূর্ণ ফায়দা তুলতে দেরি করেনি ইংল্যান্ড। আক্রমণের ধার ও গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় তারা। প্রথমার্ধের শেষভাগে হ্যারি কেইনের একটি দূরপাল্লার প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার। তবে বিরতির পর সমীকরণ বদলাতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি সফরকারীদের। দ্বিতীয়ার্ধের ঠিক ৪৭ মিনিটে ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত শটে ডেডলক ভাঙেন এবং ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন।
এক গোল হজম করার পর ব্যবধান বাড়াতে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় স্বাগতিকরা। খেলার ৬৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে হ্যারি কেইন চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার সেই শট ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ফলে স্কোরলাইন ২-০ ব্যবধানে পৌঁছায় এবং ইংল্যান্ডের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ের মানসিকতা হারায়নি চেক প্রজাতন্ত্র। ম্যাচের শেষ দিকে আদাম হ্লোজেকের একটি জোরালো প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ইংল্যান্ডের জাল অক্ষুণ্ন রাখেন গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
এই জয়ের ফলে উয়েফা নেশন্স লিগের গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের অবস্থান বেশ সুসংহত করেছে ইংল্যান্ড। দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট অর্জন করে তারা পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্টের দেখা না পেয়ে গ্রুপ তালিকার একদম তলানিতে অবস্থান করছে চেক প্রজাতন্ত্র। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তাদের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।