ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়?


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:০০ পিএম

ভূমিকা: কেবল প্রশাসনিক গণ্ডি ছাড়িয়ে দুর্নীতির বহুমাত্রিক বিস্তার

বাংলাদেশের সামগ্রিক দুর্নীতি নিয়ে যখনই কোনো না কোনো পরিসরে বা জনপরিসরে আলোচনা কিংবা সমালোচনা শুরু হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনোযোগ সবার আগে কেন্দ্রীভূত হয় সরকারি অফিস-আদালতগুলোর দিকে। ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, পাসপোর্ট অধিদপ্তর কিংবা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ-এর মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা নির্দ্বিধায় দুর্নীতির মূল আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ভুক্তভোগীদের বাস্তব বয়ান থেকে প্রাপ্ত এই কথাগুলো শতভাগ সত্য হলেও, এটি কিন্তু সম্পূর্ণ সত্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করতে গিয়ে এবং মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আজ এক নির্মম ও বেদনাদায়ক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এই দেশের প্রচলিত দুর্নীতি কেবল কিছু নির্দিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এই ব্যাধি এই জাতির প্রতিটি মানুষের রক্তে ও রন্ধ্রে রন্ধ্রে গভীরভাবে মিশে গেছে। সমাজের যে যেই পেশার সঙ্গেই যুক্ত থাকুক না কেন, প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান ও পেশাগত ক্ষমতাকে অসদুপায়ে ব্যবহার করে দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছে—কোথাও এর মাত্রা কিছুটা কম, আবার কোথাও তা অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

 

আইন অঙ্গন: পবিত্র পেশার আড়ালে বিচারের নামে প্রহসন ও বাণিজ্য

 

আইনজীবীর পেশা মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম একটি মহৎ, মর্যাদাপূর্ণ ও পবিত্র পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আইনের আশ্রয় নিতে আসা একজন অসহায় ও দিশেহারা মানুষ যখন পদে পদে বিপদে পড়ে শেষ ভরসা হিসেবে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হন, তখন তিনি নিজের জীবনের সমস্ত দুর্বলতা, গোপনীয়তা ও কষ্টের কথা অকপটে সেই আইনজীবীর সামনে তুলে ধরেন। মক্কেল অবচেতনভাবেই মনে করেন যে, তাঁর এই আইনজীবীই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর আইনি অধিকার রক্ষার শেষ দুর্গ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হলেও এটিই পরম সত্য যে, সব ক্ষেত্রে না হলেও অধিকাংশ ঘটনায় কিছু অসাধু আইনজীবী মক্কেলের সেই চরম দুর্বলতা ও অসহায়ত্বকেই নিজেদের অবৈধ আয়ের মূল পুঁজি বানিয়ে ফেলেন। মামলার বাদীর কাছ থেকে নানা অযুহাতে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে গোপনে বিপরীত পক্ষের বা বিবাদী পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে গোপন আঁতাত ও যোগসাজশ করে মূল মামলাটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজও তারা করে থাকেন। মামলার শুনানির জন্য অপ্রয়োজনে তারিখের পর তারিখ দীর্ঘায়িত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি নোটিশ জারিতে মারাত্মক বিলম্ব ঘটানো এবং ভুয়া ও জাল দলিলকে আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা চালানো তাদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়। এর ফলে মামলার বাদী, যিনি ইতিমধ্যেই নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তিনি আরও বহুগুণ বেশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হন। বিচারপ্রার্থী ওই মানুষটি তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকেন, একপর্যায়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মামলার পাহাড়সম খরচ মেটাতে মেটাতে শেষ পর্যন্ত সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ন্যায়বিচার পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে তার জীবনের সোনালী ১০ থেকে ১৫ বছর চিরতরে হারিয়ে যায়। অথচ এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে সক্রিয় থাকে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী আইনি পেশাজীবী, যারা মানুষের দুর্দশাকে নিজেদের ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন।

 

অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত: ঋণের নামে লুটপাট এবং অর্থপাচারের মহোৎসব

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা অন্যতম প্রধান। এদেশের বহু প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা প্রকৃত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মিথ্যা ও ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে শত শত কোটি টাকা ব্যাংকঋণ হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের উৎপাদনমুখী খাতে কিংবা শিল্পের প্রসারে বিনিয়োগ না করে তারা বিভিন্ন অবৈধ হুন্ডি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে দেন। কানাডার বিলাসবহুল বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ার আকর্ষণীয় সেকেন্ড হোম প্রকল্প কিংবা দুবাইয়ের সুউচ্চ আলিশান বাড়ি ও দামি সব স্পোর্টস কার কেনার পেছনে এই লুটপাট করা অর্থের সিংহভাগই ব্যয় করা হয়। পরবর্তীতে সবকিছু গুছিয়ে তারা সপরিবারে স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমান এবং দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ খাদের কিনারায় ফেলে দেন। অথচ ব্যাংকের এই বিশাল অংকের অর্থ কোনো একক ব্যক্তি বা পরিচালকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই অর্থ হলো এদেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, কৃষক, হাড়ভাঙা পরিশ্রমী শ্রমিক এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ঘাম ঝরানো প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পবিত্র আমানত। একটিমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক যখন খেলাপি ঋণের যাঁতাকলে পড়ে দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন কেবল একটি কাগজপত্রের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয় না; বরং এর মধ্য দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ ও সৎ আমানতকারীর আজীবনের স্বপ্ন ও সঞ্চয় চিরতরে ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করার এই মহোৎসবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসাধু কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারকরাও সমভাবে জড়িত থাকে, যার খেসারত দিতে হয় গোটা জাতিকে।

 

রাজনীতি: জনসেবার ব্রত বনাম ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত বিলাসিতা

 

রাজনীতি মূলত আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম এবং জনগণের কল্যাণ সাধনের একটি মহান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক নেতারা দেশ ও দশের সেবা করার সুমহান শপথ ও অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। কিন্তু কাঠামোগত অবক্ষয় ও আদর্শহীনতার কারণে বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা করার কথা বলে যারা একসময় রাজনীতিতে আসেন, পরবর্তীতে তারাই মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা বিভিন্ন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসার পরই তাদের নীতি ও আদর্শের রূপান্তর ঘটে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের জমি ও সম্পত্তি জবরদখল এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন তারা। এভাবেই এদেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে তারা গড়ে তোলেন বিলাসবহুল সাম্রাজ্য। তাদের সন্তান-সন্ততিরা দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে এড়িয়ে বিদেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে এবং অত্যন্ত বিলাসী ও আভিজাত্যপূর্ণ জীবনযাপন করে। পক্ষান্তরে, যে সাধারণ কৃষক কনকনে শীতে কিংবা প্রখর রোদে মাঠে কাজ করে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল এবং যে শ্রমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থনীতি সচল রেখেছিল, তাদের ভাগ্যের চাকা চিরকাল তিমি মাছের পেটেই থেকে যায়—তাদের জীবনের ন্যূনতম কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে না। রাজনীতির মোড়কে এই যে দুর্নীতির চর্চা, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁপা করে দিয়েছে।

 

সমাজজীবনের সর্বগ্রাসী নৈতিক পতন ও দুর্নীতির নেশা

 

বর্তমান সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সামগ্রিক পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আমাদের সমাজে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা আজ এক মহামারি রূপ ধারণ করেছে। যার যতটুকু ক্ষমতা বা এখতিয়ার রয়েছে, বেশিরভাগ মানুষই সেই ক্ষমতার ন্যূনতম অপপ্রয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করে না। যে যেখানে যে অবস্থায় রয়েছে, তার অবস্থান থেকে কেউ আর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে রাজি নয়। বর্তমান সমাজের একটি বড় অংশের মানুষের মূল চিন্তা ও মানসিকতা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কীভাবে খুব সহজে, অসৎ উপায়ে এবং শর্টকাটে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা যায়। যার যতটুকু ক্ষমতা আছে যেখানে যেভাবে পড়ে পারে কেউ সৎ ভাবে কাজ করে না বেশিরভাগ চিন্তা করে কিভাবে অসৎভাবে বেশি টাকা রোজগার করা যায়। এই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের অসুস্থ মানসিকতা আজ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক ভয়ংকর নেশায় পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, চাকরিজীবী—সর্বস্তরের মানুষ আজ এই নৈতিক অবক্ষয়ের কবলে নিমজ্জিত। সবাই কেবল নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার কোনো বালাই নেই।

 

আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সামগ্রিক সংস্কারের মাধ্যমে মুক্তির অন্বেষণ

 

সার্বিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করলে একটি মর্মান্তিক সত্যই সামনে আসে, আর তা হলো এদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও কৃষকদের ভাগ্যের চাকা কখনোই ঘোরে না। যে যে পেশাতেই নিয়োজিত থাকুক না কেন, সিংহভাগ মানুষই আজ নিজ নিজ পেশার প্রতি পুরোপুরি অবিচল ও সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই ভয়াবহ ও সর্বগ্রাসী সামাজিক ব্যাধি থেকে যদি জাতি হিসেবে আমরা চিরতরে মুক্তি পেতে চাই, তবে কেবল গুটিকয়েক সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো ব্যবস্থা নিলে চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিটি পেশাজীবীর নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠোর আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সততা নিশ্চিত করা। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কিংবা ভূমি অফিসে যেভাবে জেলা প্রশাসকেরা মাঝেমধ্যে ছদ্মবেশে বা আচমকা পরিদর্শনে যান, ঠিক তেমনিভাবে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও জেলা বার কাউন্সিল, বিভিন্ন বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। বার কাউন্সিল, ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজস্ব দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজ, অসৎ ও সুবিধাবাদী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ছদ্মবেশী অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। দলীয় পরিচয় বা পেশাগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অলক্ষ্যে ঢুকে যাওয়া এই ক্যানসারতুল্য দুর্নীতি থেকে জাতির কোনোভাবেই মুক্তি পাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই।

লেখক: আব্দুল কাইয়ুম খান

পরিচালক, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান


এ সম্পর্কিত আরো খবর