দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ভারী শিল্প কারখানাসমূহের উৎপাদন কার্যক্রমে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী জ্বালানি তেলটির দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর উৎপাদন খরচের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে ১১ টাকা ৯২ পয়সা মূল্যবৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। এর আগে বাজারদর অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত এই জ্বালানি তেলের প্রতি লিটারের নির্ধারিত দাম ছিল ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ বর্তমান সমন্বয়ের ফলে ব্যবহারকারীদের প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল ক্রয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে।
বিইআরসির সচিব নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষর সংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গত ২২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা ও আদেশ অনুযায়ী গত ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সময়কালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় হিসাব, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সিআইএফ মূল্য এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে বিইআরসি আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২ (খ) এবং ধারা ৩৪-এ অর্পিত বিশেষ দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের এই নতুন মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, নতুন নির্ধারিত এই বর্ধিত দাম আজ বুধবার রাত ১২টা থেকেই সমগ্র দেশের জন্য কার্যকর হবে। পরবর্তী নতুন কোনো নির্দেশনা বা প্রশাসনিক আদেশ না আসা পর্যন্ত ফার্নেস অয়েলের এই নতুন মূল্য বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান এবং স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এই মূল্য সমন্বয় করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা মনে করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সার্বিক উৎপাদন ব্যয় এবং পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ওপর পড়তে পারে।