ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৬ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের পক্ষ থেকে জোরালো সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক সৌজন্য ও বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটি জটিল ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রদান করা গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, উদীয়মান বৈদ্যুতিক যান বা ইভি শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরশক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি খাতে চীনা বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেন তিনি।


আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের মতো বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগগুলোকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ চীনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে নিবিড়ভাবে কাজ করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষে ডেডিকেটেড চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সুনির্দিষ্ট কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির কাজ দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা আরও বেগবান করার অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের আন্তরিক অবদান ও কূটনৈতিক প্রয়াসের কথা সকৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ইতিহাসের নানা অধ্যায় স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং দেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শিক্ষার্থীদের চীন সফর দুই দেশের সুদীর্ঘ ও পরীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর, আস্থাশীল ও সুদৃঢ় করেছে। চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনগুলোতে এই ঐতিহাসিক বন্ধন আরও অধিক শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং এতে আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য চীনের সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।


বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষায়িত চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। বিদায়ী সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সুস্বাস্থ্য, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পেশাগত জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করা হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর