ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:৩৮ পিএম

ভারতের গুয়াহাটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য উপহার দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে লড়াই করার পরেও হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছিল ক্যারিবীয়দের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সমস্ত হতাশা পেছনে ফেলে দুর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীতে ভর করে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে তারা। একই ইনিংসে তিন ব্যাটারের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির সুবাদে ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে পাহাড়সম রান সংগ্রহ করেছে সফরকারী দল। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথমবার চারশ রানের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার অনন্য গৌরব অর্জন করল ক্যারিবীয়রা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেছে বিশাল এক পাহাড়সম পুঁজি, যা ৪০৫ রান।


টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। দলীয় মাত্র ৯ রানের মাথায় ওপেনিং ব্যাটার কিচি কার্টি সাজঘরে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়েছিল দল। তবে সেই প্রাথমিক বিপর্যয়কে শক্তহাতে মোকাবিলা করে দলকে শক্ত ভিত ওপর দাঁড় করান জন ক্যাম্পবেল এবং অভিজ্ঞ অধিনায়ক শেই হোপ। এই দুই ব্যাটার মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১১০ রান, যা ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। মারমুখী মেজাজে ব্যাট করে ক্যাম্পবেল মাত্র ৬৮ বলের মুখোমুখি হয়ে ৯টি চমৎকার চার এবং ৫টি গগনচুম্বী ছক্কার সাহায্যে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার ঠিক পরের ওভারেই পেসার গুরনুর ব্রারের শিকারে পরিণত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই আক্রমণাত্মক ওপেনার।


ক্যাম্পবেল আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন বাঁহাতি ব্যাটার আমির জাঙ্গু। অধিনায়ক শেই হোপের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো চড়াও হন। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে এই দুজন মাত্র অল্প বলের ব্যবধানে অবিস্মরণীয় এক ১৮২ রানের জুটি গড়ে তোলেন। ভারতের পরিচিত ও শক্তিশালী বোলিং আক্রমণকে এই দুই ব্যাটার মিলে সম্পূর্ণ দিশেহারা করে দেন। এই ইনিংসের সুবাদে দারুণ এক ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেন শেই হোপ। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারাকে, যাঁর ঝুলিতে ছিল ১৯টি সেঞ্চুরি। উল্লেখ্য, ২৫টি সেঞ্চুরি নিয়ে ক্যারিবীয় ওয়ানডে ইতিহাসে শীর্ষে অবস্থান করছেন ক্রিস গেইল।


অন্যদিকে, মাত্র ৭০ বল খেলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি ব্যাটার আমির জাঙ্গু। সেঞ্চুরির আনন্দে তিনি শূন্যে লাফিয়ে ঘুসি মেরে নিজের উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরপরই কিছুক্ষণের জন্য পথ হারিয়ে ফেলে ক্যারিবীয়রা এবং দ্রুত ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে। অধিনায়ক হোপ সাজঘরে ফেরার পর প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক বা শূন্য রানে আউট হয়ে ফেরেন হার্ডহিটার শেরফেন রাদারফোর্ড। এরপর বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জাঙ্গুকেও তুলে নেন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। এই জোড়া উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্দান্ত দুইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ভারতের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব। ইনিংসের শেষ দিকে রোস্টন চেসের একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকরী অপরাজিত ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে ক্যারিবীয়রা ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০০ রানের গণ্ডি সফলভাবে অতিক্রম করে।


এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ৩৮৯ রান, যা তারা ২০১৯ সালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অর্জন করেছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল বর্তমান দলটি। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে যেকোনো আন্তর্জাতিক দলের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা ২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে ৪৩৮ রান সংগ্রহ করেছিল। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যারা ২০০৯ সালে রাজকোটে ভারতের বিপক্ষে ৪১১ রান করেছিল। পাশাপাশি, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র ষষ্ঠবারের মতো কোনো একটি ম্যাচে একই দলের তিনজন ব্যাটার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার বা সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি গড়লেন।


ম্যাচের এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে আনতে হলে ভারতকে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে। এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি ছিল ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬২ রান সফলভাবে অতিক্রম করার মাধ্যমে। ক্যারিবীয়দের দেওয়া এই রেকর্ড ভাঙা ৪০৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য পার করতে হলে ভারতের ব্যাটারদের সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর