ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম ও সংবাদ সম্মেলন বিতর্ককে কেন্দ্র করে ক্লাবটির চাপের মুখে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডকে মিডিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে—এমন সমস্ত গুঞ্জন ও মিথ্যা দাবি অত্যন্ত কড়া ভাষায় উড়িয়ে দিয়েছেন নরওয়ের জাতীয় দলের কোচ স্টলে সলবাকেন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, এই ধরনের মনগড়া তথ্য কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং তা তাঁর পেশাদার সততাকেও সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক কেলেঙ্কারির ঐতিহাসিক রায় আসার পরপরই নরওয়ের একটি সংবাদ সম্মেলনের সূচি থেকে হঠাৎ করেই বাদ পড়েন আর্লিং হলান্ড। উয়েফা নেশনস লিগে পর্তুগালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্ধারিত ওই মিডিয়া সেশনে তাঁর পরিবর্তে মাঠে পাঠানো হয় দলের দুই তরুণ সতীর্থ ফ্রেডরিক অউর্সনেস ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে প্রবল জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে যে, সিটির চলমান আইনি লড়াই ও সাংবাদিকদের অস্বস্তিকর প্রশ্ন থেকে বাঁচাতেই হয়তো ক্লাব কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে হলান্ডকে গণমাধ্যমের সামনে আনা হচ্ছে না।
তবে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টলে সলবাকেন নরওয়েজিয়ান প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ভিজি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত জল্পনা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ডর্টমুন্ড ছেড়ে হলান্ড যখন ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিল, কেবল তখনই শেষবারের মতো ক্লাবটির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে মিডিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছিল। এরপর আর কখনোই এ বিষয়ে সিটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা আলোচনা হয়নি।
কোচ সলবাকেন সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে এবং খেলোয়াড়কে অপ্রয়োজনীয় চাপ ও ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখার কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং এমন দাবি আমার সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি সবসময় সততা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, কারণ এটি দেশের মানুষের জাতীয় দল।” তিনি আরও জানান, নিজেই হলান্ডকে ডেকে বলেছিলেন যে সে চাইলে সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে চলতে পারে।
মাঠের বাইরে এসব গুঞ্জন ও বিতর্ক তুঙ্গে থাকলেও নিজের স্বভাবসুলভ পারফরম্যান্সে এর বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে দেননি সময়ের অন্যতম সেরা এই গোলমেশিন। ওসলোতে নেশনস লিগের ম্যাচে নিজের চিরচেনা ছন্দে থেকেই দলের হয়ে গোল আদায় করে নেন এই নরওয়েীয় ফরোয়ার্ড। আগামী দিনে ওয়েলস এবং পর্তুগালের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচগুলোর আগে দলটিকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে কোচ ও খেলোয়াড় উভয়েই এখন সম্পূর্ণভাবে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিচ্ছেন।