যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বয়োবৃদ্ধ শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং গণমাধ্যম জগতের শীর্ষ মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত জোনাথন ম্যাককিনসের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি প্রামাণিক ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে স্বয়ং নিউ ইয়র্ক টাইমস কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ প্রশাসন ও তদন্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ডাবলিন এলাকার একটি কার পার্কিং লট থেকে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে বিস্তারিত তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের বাইরে তাকে প্রথমবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রত্যক্ষ করা হয়েছিল। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, আকস্মিক ও বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি গুলির আওয়াজ শোনার পরপরই তারা ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসাদ রাজভি নামক এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তিনি হঠাৎ করেই এক ব্যক্তিকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন এবং তার মাথা ও বুক পুরোপুরি রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। এছাড়া তার মেয়ে সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান যে, তিনি নিজ চোখে অভিযুক্ত বৃদ্ধ দম্পতিকে শান্ত ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে একসঙ্গে হেঁটে যেতে দেখেছেন এবং ঠিক তার পরপরই তারা গুলি চালিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর অভিযুক্ত দম্পতি ঘটনাস্থলের আশপাশেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই পথ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এক টহলরত পুলিশ কর্মকর্তার তৎপরতায় তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই জোনাথন ম্যাককিনসেকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। নিহত এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘ডিরেক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ফর গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স’ পদে অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সাফল্যের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী ধরনের কারণ বা গভীর উদ্দেশ্য কাজ করেছিল, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে অভিযুক্ত ৭৭ বছর বয়সী শ্বশুর শৌইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করার পর বর্তমানে তাদের সান্তা রিটা কারাগারে কঠোর নিরাপত্তায় বন্দি রাখা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার সুপরিকল্পিত হত্যা মামলা ছাড়াও গুরুতর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং শিশুকে চরম বিপদে ফেলার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী বুধবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে এসব অভিযোগের মুখোমুখি হবেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনগত লড়াই করার জন্য কোনো আইনজীবী নিযুক্ত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।
সূত্র: বিবিসি