ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৪ এএম

স্টাফ রিপোর্টার

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান ও মুদ্রণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে যাচাই করতে গভীর রাতে আকস্মিক মাঠপর্যায়ে ছুটে গেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নির্ধারিত সময়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নির্ভুল, মানসম্মত ও উন্নতমানের বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি স্বয়ং রাজধানী ঢাকার ছয়টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা প্রেস পরিদর্শন করেন। গত সোমবার দিবাগত রাতে এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে মুদ্রণকাজের বাস্তব পরিস্থিতি ও গুণগত মান সরেজমিন তদারকি করেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বই ছাপার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কোনো ধরনের ত্রুটি ছাড়াই সম্পন্ন করতে এবং নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখতে শীর্ষ পর্যায়ে এই তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বইয়ের গাইড বা নমুনা কপি সংগ্রহ করে সেগুলোর মুদ্রণ মান অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন। কাগজের মান, পাতার স্থায়িত্ব, অক্ষরের স্পষ্টতা এবং বাঁধাইয়ের দৃঢ়তা ঠিকঠাক আছে কি না, তা তিনি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ছাপাখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কাজের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং বইয়ের মান রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো বই তুলে দিতে বিশাল পরিসরে পাঠ্যবই মুদ্রণের কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সর্বমোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার এই মহাযজ্ঞে বর্তমানে ছাপাখানাগুলোতে দিনরাত বইয়ের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।


শ্রেণিভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বমোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই মুদ্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই মুদ্রণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বাধিক ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার চার কপি ব্রেইল বই মুদ্রণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আসন্ন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন ও নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘খেলাধুলা’ এবং ‘আমাদের সংস্কৃতি’ নামক দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হচ্ছে। সংশোধিত ও পরিমার্জিত অন্যান্য বিষয়ের বইগুলোর সঙ্গে এই নতুন বইগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


মুদ্রণ কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের টেক্সট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, বর্তমানে বই ছাপার কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। কোনো রকম বিলম্ব বা জটিলতা ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আসছে বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর