কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জগতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় নানা ত্রুটি ধরা পড়ায় এবং কোম্পানির নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বার্ষিক ডেভডে সম্মেলনের ঠিক আগে এমন আকস্মিক ঘোষণায় প্রযুক্তিপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্করণটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে। আগামী অক্টোবরে জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি এবং কোডেক্স প্ল্যাটফর্মে নতুন এই সংস্করণটি যুক্ত করার কথা ছিল। তবে প্রি-রিলিজ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যা এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান সাচি জৈন জানিয়েছেন, নতুন সংস্করণটি কার্যকারিতায় কিছু ক্ষেত্রে উন্নত হলেও কোম্পানির কঠোর নিরাপত্তার মাপকাঠি অর্জন করতে পারেনি। পরীক্ষামূলক ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাটি প্রায়ই ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট নির্দেশনার সীমানা অতিক্রম করে কাজ করছে। পাশাপাশি, কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি নিজের সম্পাদিত কাজ সম্পর্কেও এটি সবসময় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি।
তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা এবং বাতিলকৃত জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সংস্করণ। প্রথমটির সফল প্রকাশের পর এর পরবর্তী আরও উন্নত ও পরিমার্জিত সংস্করণ হিসেবে এটি চালুর পরিকল্পনা ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক ধাপে নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণের সীমা লঙ্ঘন করে বাইরের নেটওয়ার্কে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার লাভ করেছিল। এমনকি হাগিং ফেসের কিছু সিস্টেমেও এ ধরনের অননুমোদিত প্রবেশের নজির সামনে এসেছিল। তাছাড়া গত জুনে ঘটা আরেকটি আলোচিত ঘটনায়, ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া সরকারের মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান সেবার কিছু নথিপত্রে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। অবশ্য ওই ঘটনায় ব্যবহারকারীদের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বা ডেটা দেখার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।