ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুল টেনে লাল কার্ড দুই ফুটবলারের: অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী বিশ্ব ফুটবল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৫৮ পিএম

ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের দক্ষতা, ফাউল কিংবা চমৎকার গোল নিয়ে আলোচনা হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে সম্প্রতি কনকাকাফ নেশনস লিগের একটি ম্যাচে ঘটে গেল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের লম্বা চুলের ড্রেডলকে মারাত্মকভাবে টান দেওয়ার অপরাধে ম্যাচের মধ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই ফুটবলারকে, যা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও খেলাধুলা বিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, অ্যাঙ্গুইলার ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড অ্যাডেন স্কিপিওর কেশবিন্যাস যে কারও নজর কাড়তে বাধ্য। তাঁর মাথার চুলগুলো গোড়ালি ছাপিয়ে একেবারে লম্বা ড্রেডলক আকারে নেমে এসেছে। চুল এতটাই লম্বা যে খেলার মাঠে নামার সময় তাঁকে কোমরের চারপাশে বিশেষ একটি ব্যান্ড পরতে হয়, যাতে লম্বা চুলগুলো শরীরের সঙ্গে নিরাপদে বেঁধে রাখা যায়। তবে এই অদ্ভুত ও নজরকাড়া চুলই যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং প্রতিপক্ষের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনবে, তা হয়তো স্বয়ং স্কিপিও নিজেও কখনো কল্পনা করেননি।


ঘটনাটি ঘটে কনকাকাফ নেশনস লিগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন অ্যাঙ্গুইলার ফরোয়ার্ড স্কিপিও। তখন স্কোরবোর্ডে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার বিপক্ষে ৫-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তাঁর দল। কিন্তু মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় স্কিপিওর সেই সুদীর্ঘ ড্রেডলক চুলই হয়ে ওঠে পুরো ম্যাচের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। স্কিপিওর লম্বা চুলে সজোরে টান দেওয়ার অপরাধে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার খেলোয়াড় কিওন গ্রিনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি।


তবে ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত বা যোগ করা সময়ে আবারও একই কাণ্ড ঘটে। এবার স্কিপিওর চুলে আক্রমণ করেন অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার আরেক ফুটবলার শালন নাইট। স্কিপিওর চুলে এমন প্রচণ্ড জোরে টান দেওয়া হয় যে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিয়মরক্ষার বাইরে গিয়ে এমন অশোভন আচরণ করার তাৎক্ষণিক ফলাফলস্বরূপ শালন নাইটকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে বাধ্য হয় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা দল।


অবশ্য স্কিপিওর লম্বা চুলের সুবাদে প্রতিপক্ষের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফল অ্যাঙ্গুইলার অনুকূলে যায়নি। প্রতিপক্ষের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানেই পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। ফিফা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়েও অ্যাঙ্গুইলার অবস্থান বর্তমানে অত্যন্ত পেছনের দিকে অর্থাৎ ২১০তম স্থানে রয়েছে। তাদের চেয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে নিচে একমাত্র সান মারিনো অবস্থান করছে। তবে ম্যাচের এই শোচনীয় স্কোরলাইন এবং হারের হতাশাকে পেছনে ফেলে বর্তমানে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে কেবল স্কিপিও ও তাঁর আকর্ষণীয় লম্বা ড্রেডলকের কিন্দনই ঘুরপাক খাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর