বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের সেই আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে পেশির চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ক্লাবটির বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফর্মে থাকা তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ফিফা উইন্ডোতে নিজেদের সেরা খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়ার আশঙ্কার মুখে এই ঘটনা কাতালান শিবির ও কোচ হান্সি ফ্লিককে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ডান পায়ের উরুতে অস্বস্তি বোধ করায় সেলেসাও অধিনায়ক রাফিনিয়া প্রথমার্ধের ঠিক পরপরই মাঠ ছাড়েন। তবে এই ইনজুরির প্রকৃত প্রকৃতি এবং এটি কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বাধ্য হয়েই প্রথমার্ধের বিরতির পর রাফিনিয়ার পরিবর্তে তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিককে মাঠে নামান। মাঠ ছাড়ার আগে অবশ্য দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাফিনিয়া ম্যাচের ৪৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ২-২ সমতা এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
রাফিনিয়ার এই চোটের সময়কালটি বার্সেলোনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর আগে স্প্যানিশ প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘মার্কা’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, চলতি মৌসুমে অবিশ্বাস্য ছন্দে থাকা এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল বার্সা কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার দীর্ঘ ভ্রমণপথ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের অতিরিক্ত ধকলের কারণে তার শারীরিক ক্লান্তি ও চোটের ঝুঁকি নিয়ে আগে থেকেই চরম উদ্বেগ ছিল ক্লাবটির। বিশেষ করে গত মার্চে ফ্রান্স ও ব্রাজিলের মধ্যকার ম্যাচ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে হাইতির বিপক্ষে খেলার সময়ও একই ধরনের পেশির চোটে পড়েছিলেন তিনি। ওই ইনজুরির কারণে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল এই তারকাকে। ব্রাজিলের স্বনামধন্য পোর্টাল ‘গ্লোবো’ এবং তাদের সহযোগী ওয়েবসাইট ‘জিই’-এর প্রতিবেদনেও অতীতে একই জায়গায় তার বারবার সমস্যায় পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে রাফিনিয়ার শুরুটা ছিল রূপকথার মতো। স্প্যানিশ লা লিগার প্রথম সাত রাউন্ডে ১২টিসহ ক্লাবটির হয়ে প্রথম আটটি অফিসিয়াল ম্যাচে চোখধাঁধানো ১৪টি গোল করেছেন তিনি, যা তাকে দলের অপরিহার্য তারকায় পরিণত করেছে। খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে যোগ দিলে যে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, তা আগেই গণমাধ্যমের কাছে অকপটে স্বীকার করেছিলেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। তিনি যদিও জাতীয় দলের টেকনিক্যাল স্টাফদের ওপর আস্থা রাখার চেষ্টা করেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দলটিকে বড় বিপাকে ফেলেছে।
বর্তমানে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ রাফিনিয়ার পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে এটি নিছক সাময়িক কোনো অস্বস্তি নাকি দীর্ঘমেয়াদী কোনো পেশির ইনজুরি, যা আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে তার ক্লাবে ফেরাটাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে কি না।