ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:২১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে নৈতিক স্খলন, পদ বাণিজ্য এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপনীয় থাকলেও সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের অভ্যন্তরীণ তিনটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে রূপ নেয়।


ফাঁস হওয়া চিঠিগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত প্রথম চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ মূলতবি বা স্থগিত করা হয়েছিল। ওই সময় দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এবং মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে আলোচনা সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে জানানো হয় যে, বারবার সংশোধনী ও সুযোগ দেওয়ার পরেও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি তাঁর সাথী পদ স্থায়ীভাবে বাতিল করেন।


সর্বশেষ চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে আগেই তাঁর সাথী পদ মূলতবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে তাঁর বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও ফৌজদারি অপরাধে জড়ানোর ফলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং তা সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বর্তমান ও সাবেক জনশক্তির নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর অনলাইন বা অফলাইন কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের পজিটিভ বা নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকতে এবং শুধুমাত্র রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা দাপ্তরিক প্রয়োজন ছাড়া বাকি সব স্তরের জনশক্তিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।


উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামক একটি প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন সালাউদ্দিন আম্মার। ওই প্যানেলটিকে শুরু থেকেই ছাত্রশিবিরের একটি ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করা হতো। বিশেষ করে ওই প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিবিরের অভ্যন্তরীণ চিঠিতে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য সামনে আসায় ‘ডামি প্যানেল’ সংক্রান্ত পুরনো আলোচনা আরও তীব্রভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।


এদিকে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ শুরু থেকেই বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সালাপ কিংবা প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে ফাঁস হওয়া চিঠি ও বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, প্রকাশিত চিঠিটি সম্পূর্ণ সত্য এবং ২০২৫ সালেই সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।



এ সম্পর্কিত আরো খবর