ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

দল থেকে বহিষ্কৃত এমপির পদ থাকবে কি না, যা বলছে সংবিধান ও ইসি


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:২৮ পিএম

দল থেকে বহিষ্কার এবং ব্যক্তিগত জীবনের চাঞ্চল্যকর বিতর্ক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বহাল থাকা নিয়ে নতুন করে তীব্র আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর থেকেই এই প্রশ্নটি দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংসদ সদস্যের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নৈতিক স্খলনের দায়ে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর ন্যাম ভবন থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

 

সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে দেশের সংবিধানে সরাসরি বা স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবাল এ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করে বলেন, নজরুল ইসলাম সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ভোট দেননি কিংবা তিনি নিজে থেকে দল থেকে পদত্যাগও করেননি। তাছাড়া সংবিধানের ৬৬ বা ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের যে ব্যাখ্যার কথা বলা হয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায় বা আইনি শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেই বিধানের সরাসরি আওতায় পড়ছেন না। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে আইনি ও সাংবিধানিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

 

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গাজী নজরুল ইসলাম এখন আর দলটির সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। দলটির আইনজীবী শিশির মনির গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেছেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ও সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, সেটিই কার্যকর হবে; এ বিষয়ে জামায়াতের আলাদা কোনো বক্তব্য নেই। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্য পদ বাতিল বা রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্পিকার এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচন কমিশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কেবল দাপ্তরিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল যদি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে জানায় যে বহিষ্কৃত ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ আর রাখা সমীচীন নয়, তবে স্পিকার তা নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে পারেন এবং ইসি আইনগুলো যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, স্পিকার চাইলে নিজ ক্ষমতাবলেও এ বিষয়ে ইসিকে নির্দেশনা দিতে পারেন।

 

এদিকে এই পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডের ফলে জাতীয় সংসদের অবমাননা হয়েছে এবং দেশের সকল সংসদ সদস্যের সম্মান ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ অবস্থায় দেশবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ স্পিকারের কাছ থেকে একটি দৃশ্যমান ও জোরালো অবস্থান প্রত্যাশা করছে, যা সংসদীয় রাজনীতির পবিত্রতা রক্ষা করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর