ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিষিদ্ধ নয়, বই বিক্রিতে বাধার প্রতিবাদ আসিফ নজরুলের


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩৫ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহুল পঠিত ও ঐতিহাসিক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে অনৈতিক বাধা দেওয়া, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং দায়িত্বরত কর্মীদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, বহুল সমাদৃত এই ঐতিহাসিক গ্রন্থটি কোনোভাবেই নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো বই নয়। দেশের বর্তমান পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রতিবাদলিপি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএএল) বাংলাবাজারস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে ও কার্যালয়ে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির বিক্রি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং সেখান থেকে নিরীহ কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট অপরাধের গন্ধ রয়েছে। এই ধরনের বেআইনি অপতৎপরতা দেশের প্রচলিত আইন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।

 

বিগত ফ্যাসিবাদী ও দমনমূলক শাসন আমলের অন্ধকার অধ্যায়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের এই ধরনের বিচ্ছিন্ন কিন্তু বিপজ্জনক প্রবণতার তুলনা করে সাবেক এই উপদেষ্টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে লেখক, সাহিত্যিক ও মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর দমনপীড়ন চালানো হতো, বই প্রকাশে সেন্সরশিপ আরোপ করা হতো এবং বই বিক্রিতে বাধা দেওয়ার মতো বহু ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। সে সময় ওইসব অপশাসনের বিরুদ্ধে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও মুক্তচিন্তার মানুষ সোচ্চার কণ্ঠে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

 

কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে এসে যদি ঠিক একই রকম নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং দেশের মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন, এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ প্রকারান্তরে অতীতের ফ্যাসিবাদী ও জনবিচ্ছিন্ন পথকেই অন্ধভাবে অনুসরণ করার শামিল, যা বর্তমান সরকারের সংস্কার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

ইউপিএলের মতো দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে এ ধরনের হামলা, ভীতি প্রদর্শন এবং বই বিপণনে অযাচিত হস্তক্ষেপ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতের জন্য এক বড় অশনি সংকেত। জ্ঞানচর্চা, বই প্রকাশ এবং পছন্দের বই পড়ার স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা সংকীর্ণ মানসিকতার বশে এ ধরনের সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।

 

অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অনতিবিলম্বে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে এবং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের বেআইনি অপতৎপরতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণের পথকে আরও প্রশস্ত করতে পারে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর