জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে জাতীয় সংসদ। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সেবার মান দ্রুত উন্নয়নের জন্য জোরালো সুপারিশ করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, মানসুরা আক্তার, মো. কেরামত আলী এবং সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। এছাড়া বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ডাক বিভাগের ডাটাবেজে দেশের সব নাগরিকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের অবকাঠামো প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সক্ষম বাংলাদেশ গঠন, ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন, কলসেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর আরোপ করা হয়। বিশেষ করে দেশের শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করার চলমান প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পারস্পরিক পরিচিতি পর্বে অংশ নেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের জনবল কাঠামো, অর্পিত কার্যাবলী, বিগত দিনের উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ শিল্প, পার্সেল সার্ভিস এবং ওয়াই-ফাই সেবার চলমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বিমানবন্দরসমূহে ওয়াই-ফাই সেবার মান বৃদ্ধি, ভূমি সেবার আধুনিকায়ন, ইন্টারনেট সেবার খরচ কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএল-এর অব্যবহৃত সম্পদ ও অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ডাক বিভাগে পার্সেল সেবার পরিমাণ বাড়ানোর নানা দিক নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। কমিটি আশা প্রকাশ করে যে, এসব উদ্যোগ ও সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি ইতিবাচক বিপ্লব সাধিত হবে এবং সাধারণ নাগরিকরা আধুনিক ডিজিটাল সেবার সুফল পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন।