ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৮ পিএম

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও উত্তেজনার আভাস দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা ও কংগ্রেসের প্রভাবশালী সাংসদ রাহুল গান্ধী। রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি দাবি করেছেন যে, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে ভারতীয় রাজনীতিতে এমন কিছু বড় ঘটনা ঘটতে পারে যা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে গভীর চাপে ফেলে দেবে।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রাহুল গান্ধী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনকে আরও শানিত ও বেগবান করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। রাহুল দাবি করেন, সরকারের ভেতরের বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্র ও কর্মকর্তার কাছ থেকে তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য রয়েছে, যা যথাসময়ে প্রকাশ পেলে সরকার কোণঠাসা হয়ে পড়বে।


বৈঠকে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে কারচুপির গুরুতর অভিযোগও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ইভিএম ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তবে ইভিএমে কারচুপির এই অভিযোগগুলো এখনো কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে অংশ নিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেন এবং আন্দোলন আরও তীব্র করার পক্ষে জোরালো মত দেন।


শরিক দলগুলোর মধ্যে কিছু রাজ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা রক্ষায় বিরোধীদের এক প্ল্যাটফর্মে অনড় থাকার আহ্বান জানান রাহুল গান্ধী। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াইয়ে যারা অতীতে একসঙ্গে পথ হেঁটেছেন, ইতিহাস তাদের স্মরণ রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একক প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বা প্রধান নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।


সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে বৈঠক থেকে দেশজুড়ে কঠোর যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা ও জনপদে ‘গণতন্ত্র রক্ষার পদযাত্রা’ পালন করবে জোটের শরিকরা। এছাড়া আগামী ৬ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের অভিমুখে বিরোধী সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিবাদী মিছিল ও ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর