মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে সেপ্টেম্বরের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। মুদ্রাস্ফীতির হার কিছুটা নরম হওয়ার সুসংবাদ থাকলেও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র মনোভাব বজায় ছিল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের দামের প্রভাবের কারণে ইউরোপীয় শেয়ার বাজারগুলোও পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের লেনদেন শেষ করেছে।
ইস্তাম্বুল থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিনে মার্কিন স্টক মার্কেটগুলোতে মিশ্র ধারা দেখা গেছে। প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৪৪৩.৮৭ পয়েন্ট বা ০.০.৮৬ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৫০,৯০৬.০৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১৯.৩০ পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭,৬৫১.৫৪ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে। তবে এই পতনের ধারা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক কম্পোজিট, যা ৬৩.৫২ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬,৮৬১.০৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা মূলত ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক ব্যক্তিগত খরচ বা পিসিই মূল্য সূচক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে বার্ষিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে, যা বাজারের পূর্বাভাস ৩.৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। একইভাবে খাদ্য ও জ্বালানি খাত বাদে মূল মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রত্যাশার চেয়েও কম। তবে দুটি পরিমাপকই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো ওপরে অবস্থান করছে।
মূল্যস্ফীতির এই নিম্নমুখী তথ্যের পাশাপাশি শক্তিশালী কর্মসংস্থানের ডেটাও প্রকাশিত হয়েছে। পে-রোল প্রসেসিং ফার্ম এডিপি (ADP)-র তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান ৯০ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের ৬৮ হাজার চাকরির পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এডিপির প্রধান অর্থনীতিবিদ নীলা রিচার্ডসন মন্তব্য করেছেন, “টানা তিন মাসের শ্লথগতির পর কর্মসংস্থান নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং মজুরি প্রবৃদ্ধির গতি বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।” মূল্যস্ফীতির এই ইতিবাচক পরিসংখ্যানের পর ব্যবসায়ীরা আগামী অক্টোবর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, এক দিন আগের ৫১ শতাংশের তুলনায় সুদের হার এক চতুর্থাংশ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের মূল দৃষ্টি আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান রিপোর্টের দিকে রয়েছে, যেখানে নন-ফার্ম পে-রোল ৮৪ হাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বন্ড মার্কেটে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড প্রায় ৪.৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫.৩০৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন বাজারের পাশাপাশি ইউরোপের শেয়ার বাজারগুলোতেও পতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের পাশাপাশি উচ্চ বন্ড ইয়েল্ডের কারণে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। বেঞ্চমার্ক স্টক্স ইউরোপ ৬০০ ইনডেক্স ০.৫ শতাংশ কমে ৬৩৪.৮৯ পয়েন্টে নেমে আসে। এছাড়া ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ০.২৯ শতাংশ কমে ১০,৬০৬ পয়েন্টে, জার্মানির ডিএএক্স ৪০ সূচক ০.৭৯ শতাংশ কমে ২৫,১৯৯.১৯ পয়েন্টে, ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ০.৮৯ শতাংশ কমে ৭,৯৬৪.৫১ পয়েন্টে এবং ইতালির এফটিএসই এমআইবি সূচক ০.০.৮৪ শতাংশ কমে ৫১,৩৭১.৯৮ পয়েন্টের কাছাকাছি বন্ধ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক মুচাহিতহান আভচিওগ্লু (Mucahithan Avcioglu)-র পাঠানো এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের টানটান উত্তেজনার সার্বিক চিত্র ফুটে উঠেছে।
(সূত্র: আনোডোলু এজেন্সি)