যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে শেষ মুহূর্তের এক নাটকীয় আইনি পদক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এক নারীর সাজা স্থগিত করা হয়েছে। ক্রিস্টা গেইল পাইক নামক ওই নারীই ছিলেন বর্তমানে টেনেসির একমাত্র নারী বন্দী, যাঁর ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছিল। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, গত দুই শতাব্দীরও বেশি দীর্ঘ সময়ে এই অঙ্গরাজ্যে কোনো নারী আসামির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো নজির নেই।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর দণ্ড কার্যকরের কথা নির্ধারিত ছিল। এর আগে দেশের উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সমস্ত আইনি আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও তাঁকে ক্ষমা করতে বা দণ্ড মওকুফ করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালতের বিচক্ষণ হস্তক্ষেপে দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়। আদালতের সম্মানীত বিচারপতিরা মত প্রকাশ করেছেন যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল এই মামলাটির আইনি দিকগুলো আরও গভীরভাবে ও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এই স্থগিতাদেশ কত দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে, সে বিষয়ে আদালত থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সাধারণত বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমেই বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে। তবে এই দীর্ঘ, অমানবিক ও যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীদের মধ্যে নানা বিতর্ক ও জোরালো অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্রিস্টা গেইল পাইক নিজেই আইনগতভাবে আবেদন করেছিলেন যেন বিষাক্ত ইনজেকশনের যন্ত্রণার মুখোমুখি না হয়ে, সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি ফায়ারিং স্কোয়াডের নির্বিচারে গুলিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বিচারিক সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে কেবল ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে আদালত তাঁকে এই সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারের অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি জীবন অতিবাহিত করে আসছেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। (সূত্র: আলজাজিরা)