ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

ফ্লাইদুবাই বিমান হামলা কাণ্ড: হিরো বনে গেলেন পাইলট স্মিথ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:২১ পিএম

মাঝ আকাশে ঘাতক সহ-পাইলটের আকস্মিক ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হওয়ার পরও অসামান্য বীরত্ব, ঠান্ডা মাথা ও সাহসিকতা প্রদর্শন করে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে গত বুধবার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি সংঘটিত হয়। উড়োজাহাজটি যখন ওমানের আকাশসীমা অতিক্রম করছিল, তখন হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতরে এই মারাত্মক হামলা চালানো হয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করা। তবে জীবনমৃত্যুর চরম সংকটেও নিজের পেশাদারিত্ব, সর্বোচ্চ সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে বড় ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিপর্যয় থেকে ফ্লাইটটিকে রক্ষা করেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ক্যাপ্টেন স্মিথের এই বীরত্বগাথার বিস্তারিত বিবরণ। পেশাগত জীবনে দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালনার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি মুম্বাইভিত্তিক জনপ্রিয় ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা স্পাইসজেটে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগদান করেন। নিজের পেশাগত বিবরণীতে তিনি বরাবরই উড়োজাহাজ চালাতে গিয়ে ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন, যা এই জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাস্তব জীবনে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে।


হামলার শিকার হয়ে গুরুতর জখম হওয়ার পরও আত্মাবদান ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে স্মিথ দ্রুত উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জরুরি অবতরণ করান। বর্তমানে তিনি তাবুক শহরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। এদিকে ভারতের মুম্বাইয়ের ঘাটকপার ইস্ট এলাকায় বসবাসকারী তাঁর মা-বাবা এই আকস্মিক সংবাদ পাওয়ার পরপরই দ্রুত সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন স্মিথের স্ত্রী ও তাঁদের দুই সন্তান বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করছেন।


পাইলট হিসেবে আকাশ ছোঁয়ার এই দীর্ঘ যাত্রাপথটি তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। অতীতের একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে স্মিথ নিজেই অকপটে জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের একটি পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল সেই ব্যবসার হাল ধরার ওপরই। ব্যবসা আরও প্রশস্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি যখন ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা শুরু করেন, ঠিক তখনই উড়োজাহাজ চলাচল সংক্রান্ত একটি বিশেষ সেমিনারে তাঁর অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। আর সেই সেমিনারটিই তাঁর জীবনের পুরো গতিপথ চিরতরে বদলে দেয়। স্মিথ জানিয়েছিলেন, পাইলট পেশাটি বেছে নেওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছাটি তাঁর মা কিছুতেই মেনে নিতে চাননি। তবে গত এক দশকে ভারতের উড়োজাহাজ চলাচল খাতের অভূতপূর্ব ও দ্রুত বিস্তৃতির ফলে মায়ের সেই ভীতি ধীরে ধীরে দূর হয় এবং তিনি সন্তানের সিদ্ধান্তকে সহজভাবে গ্রহণ করেন।


এই রোমহর্ষক বিমান হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন বীর পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে এই পাইলটের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন যে, মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও স্মিথ যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং হামলাকারীকে প্রতিহত করে ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। এর ফলে অন্য যাত্রী ও ক্রুরা সময়মতো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তাঁর এই তাৎক্ষণিক বীরত্ব শত শত মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা করেছে। এদিকে, ককপিটে এই নৃশংস হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁকে নিয়ে বর্তমানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


এ সম্পর্কিত আরো খবর