ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

প্রযুক্তি খাতের কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড চান ৮৬ শতাংশ আমেরিকান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৩৭ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর জনমত সমীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে (AI) ঘিরে ভয়াবহ উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি (Quinnipiac University)-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত নতুন এক জরিপ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান বিস্তার মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির যুগে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দাবি যে কতটা জোরালো হয়েছে, এই সমীক্ষাটি তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

 

প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট উত্তরদাতাদের ৭৩ শতাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ নাগরিক নিজেদের অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে অভিহিত করেছেন এবং ৩৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে রয়েছে মাঝারি ধরনের সংশয়। অন্যদিকে, এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তি ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

 

শুধু অস্তিত্বের সংকট নিয়েই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং এর মানদণ্ড নির্ধারণের প্রশ্নেও মার্কিন জনমত অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের প্রায় ৮৬ শতাংশই জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই কঠোর ও স্বাধীন নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। এমনকি এর ফলে যদি প্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক বিকাশ বা গবেষণার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়, তবুও জননিরাপত্তার স্বার্থে এই কড়াকড়ি জরুরি বলে মনে করেন তারা। সাধারণ মানুষের এই মনোভাব প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির অগ্রগতির চেয়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এখন তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

 

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও নির্বাহীদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটও চরমে পৌঁছেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন যে এআই খাতের কোম্পানিগুলোর প্রধানদের ওপর তাদের খুব সামান্য কিংবা ন্যূনতম কোনো আস্থাই নেই। পাশাপাশি, প্রায় ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ভালো কিছুর চেয়ে বরং নেতিবাচক ক্ষতিই বেশি ডেকে আনবে। প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং এর নৈতিক দিকগুলো নিয়ে করপোরেট নেতাদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার ঘাটতি এই জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

 

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এই গুরুত্বপূর্ণ দেশব্যাপী সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছিল গত ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জরিপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ১ হাজার ২০২ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতামত নেওয়া হয়। এর পরিসংখ্যানে ত্রুটির মার্জিন বা ব্যবধান ধরা হয়েছে প্লাস-মাইনাস ৩.৫ শতাংশ পয়েন্ট। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনোডোলু এজেন্সির সাংবাদিক রাবিয়া ইকলাল তুরান (Rabia İclal Turan)-এর পাঠানো এই প্রতিবেদনটি আধুনিক প্রযুক্তি জগতের চালচিত্র এবং জনমানসের ভয়ের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তির লাগামহীন বিস্তার রোধে নীতিনির্ধারক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

(সূত্র: আনোডোলু এজেন্সি)


এ সম্পর্কিত আরো খবর