ক্রীড়া ডেস্ক
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। জাপানের নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের স্লো ও চ্যালেঞ্জিং উইকেটে ব্যাটিং বিপর্যয় এবং দলের অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অতি খরুচে বোলিংয়ের চরম খেসারত দিয়ে ফাইনালের সোনালী স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লিটন দাসের দলের। নির্ধারিত ১৩ ওভারের সংক্ষিপ্ত ম্যাচে পাকিস্তান ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখেই খুব সহজে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই বেদনাদায়ক হারে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে বাংলাদেশ ছিটকে গেলেও আগামী ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচ খেলার সুযোগ এখনো তাদের সামনে খোলা রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘসময় কাভারের নিচে ঢাকা থাকায় উইকেট ছিল বেশ স্লো। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং ধীরগতির কবলে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে টাইগার ব্যাটাররা। চার ওভারের পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে দল সংগ্রহ করে মোটে ২৩ রান। দলের বিপর্যয় সামাল দিয়ে তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ঝোড়ো ৪২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন ছাড়া দলের আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে অধিনায়ক লিটন দাস মাত্র ৩ বল খেলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন, যা দলকে দারুণ বিপদে ফেলে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানের মাঝারি সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
১১২ রানের মামুলি লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে নেমে বাংলাদেশ বোলাররা শুরুতে কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দলের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিপর্যয়কর বোলিং পুরো ম্যাচের মোমেন্টাম চিরতরে বদলে দেয়। মুস্তাফিজ তার কোটার মাত্র ২ ওভার বোলিং করে অবিশ্বাস্যভাবে ৪১ রান খরচ করেন। বিশেষ করে ইনিংসের দশম ওভারে তিনি একাই দেন ২৩ রান, যা ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি পাকিস্তানের পক্ষে নিয়ে যায়। পাকিস্তানি ব্যাটার আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ এবং সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এছাড়া হাসান নেওয়াজ করেন ২২ বলে ২৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে চার স্পিনার থাকলেও অধিনায়ক লিটন মোসাদ্দেককে বলই করাননি, আর নাসুম ৩ ওভারে খরচ করেন ৩৩ রান।
এই দুঃখজনক পরাজয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেল। তবে বাংলাদেশ দলের সামনে এখনো পদক জেতার সুযোগ রয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের বিপক্ষে আগামী ৩ অক্টোবর সকালে ব্রোঞ্জ জয়ের উদ্দেশ্যে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।