ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

পুলিশে ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই: মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:০৭ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশি হেফাজত থেকে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের দ্রুততম ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখে শেষ রক্ষা হয়নি; ছিনিয়ে নেওয়া মূল আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ সদস্যদের ওপর শারীরিক হামলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি মন্দিরের সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে নিয়মিত মোবাইল ডিউটি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় দর্শনা থানার এসআই মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে উক্ত এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্দেহভাজনদের ঘেরাও করে। এ সময় পুলিশ কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু সিদ্দীকসহ (৭০) বেশ কয়েকজনকে আটক করে।


পুলিশ যখন আটককৃত আবু সিদ্দীককে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, ঠিক তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে ওত পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা পুলিশের কার্যক্রমে চরম বাধা সৃষ্টি করে এবং উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর শারীরিক হামলা চালায় এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করে। এই আকস্মিক হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা পুলিশের হেফাজত থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন মাপের নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি দেশীয় হাসুয়া জব্দ করে পুলিশ। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনভর ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া মূল আসামি মো. আবু সিদ্দীককে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— লক্ষণ, মো. ফিরোজ হোসেন, মো. ফরহাদ হোসেন, সোনালী হালদার, কণা রাণী, মোছা. নাছিমা বেগম, আলম বাদশা এবং ফুলন হালদার। এরা সবাই দর্শনা চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।


এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর