ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

মাধবপুরে মাদকাসক্ত হয়ে বাবা-মাকে মারধর, যুবকের ৬ মাসের জেল


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাদকাসক্ত হয়ে নিজ মা-বাবাকে নির্মমভাবে মারধর করার গুরুতর অপরাধে মো. ফাহিম (২২) নামের এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবিপুর এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।


স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত ফাহিম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদকের সঙ্গে আসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের পর তিনি প্রায় নিয়মিতই নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম অসদাচরণ করতেন এবং তুচ্ছ কারণে বয়োবৃদ্ধ মা-বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সর্বশেষ তিনি মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজের বাবা-মাকে আবারও বেধড়ক মারধর করেন। এই অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।


জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবিপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মৈত্রী রায়। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ফাহিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক অভিযোগের সার্বিক বিষয় শুনানি করেন এবং অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন অনুযায়ী তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।


এই সফল অভিযানে স্থানীয় কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইকতিয়ার মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক আইনগত সহযোগিতা প্রদান করে। প্রশাসনের এমন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী।


রায় প্রদানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মৈত্রী রায় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে প্রশাসন সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক সেবন করে যারা নিজেদের পিতা-মাতার ওপর হাত তোলার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কঠোর আইনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর