রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় সাইকেল চুরি, পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ এবং তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের জেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জিগাতলার গাবতলী মসজিদ সংলগ্ন ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ হোস্টেলে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরবর্তীতে মধ্যরাতে (রাত সাড়ে ১২টার দিকে) দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার-সাতজনের একটি তরুণ গ্রুপের একজনের সাইকেল চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এই গোলযোগের সূত্রপাত। চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজনদের ওপর চড়াও হয়ে উগ্র আচরণ করা হলে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে কলেজ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মুচলেকা বা সমঝোতার মাধ্যমে তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনার রেশ কাটতে না রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঢাকা রেসিডেন্সি হোস্টেলের পাশাপাশি কয়েকটি রুমে থাকতেন। তাঁদের মধ্যে একজনের সাইকেল চুরির ঘটনার পাশাপাশি জুনিয়রদের কিছু পাওনা টাকা বকেয়া ছিল। ১ তারিখ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যখন হোস্টেল ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। টাকা পরিশোধে টালবাহানা ও বিকাশে পরিশোধের কথা বলা হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন, যার জেরে তাঁদের ওপর মারধরের ঘটনা ঘটে।
এই খবর হলে পৌঁছানোর পর ঢাকা কলেজ থেকে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী এসে হোস্টেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এই সংঘাতের দ্বিতীয় দফায় ঢাকা কলেজের ২৪ ব্যাচের রিজভী ও আসিফসহ চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন।
বর্তমানে জিগাতলার গাবতলী মসজিদ সংলগ্ন ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ হোস্টেলটি পুলিশ কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঘিরে রেখেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বড় ধরনের রক্তক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ঢাকা কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।