একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই পারে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের সার্বিক উন্নয়ন, কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কৃষিখাতের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে বহুগুণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়েদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ এবং সবশেষে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের এক ছাতার নিচে সরকারি সেবা প্রদান করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আনন্দময় করতে প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দেন তিনি। যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবেশ সুরক্ষা ও পানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করা হবে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রসারে কাজ চলছে, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড কারখানার মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশের গর্ব।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে। তবে এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ টেকসই প্রত্যাবাসন। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক ও কৌশলগত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।