ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৩:২৮ পিএম

রাজধানীর ঐতিহাসিক প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি বিশেষ সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও কূটনীতিতে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছাত্র-জনতার তীব্র ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় প্রদানের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তৎকালীন আকস্মিক ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া ছাড়া নয়াদিল্লির হাতে অন্য কোনো বিকল্প বা সুযোগ খোলা ছিল না।


শনিবার অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মুক্ত আলোচনায় দীনেশ ত্রিবেদী বিগত দিনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও সংকটের নানা দিক উন্মোচন করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বহুদিনের ঐতিহাসিক, পরীক্ষিত ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বের অংশ হিসেবে তৎকালীন জটিল সংকটময় মুহূর্তে ভারতের ঠিক সেটাই করা উচিত ছিল, তারা এতদঞ্চলে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখার স্বার্থে সেটাই করেছে। তিনি একটি গুরুতর আশঙ্কার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যদি ওই সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি না দেওয়া হতো, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ও বিপজ্জনক হতে পারত, তার কোনো সঠিক ধারণা কারো পক্ষেই করা সম্ভব ছিল না। এ ধরনের একটি অনিশ্চিত ও ঝনঝনে পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ছাড়া নয়াদিল্লির সামনে কূটনৈতিক বা মানবিক দিক থেকে অন্য কোনো পথ ছিল না।


শেখ হাসিনার ভারতে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও মাধ্যম নিয়ে যেসব ধোঁয়াশা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, তারও একটি স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন এই ভারতীয় দূত। তিনি জোরালোভাবে পরিষ্কার করে দেন যে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোনো সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনী সরাসরি কোনো অপারেশন পরিচালনা করেনি বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো উড়োজাহাজ পাঠানো হয়নি। বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে চড়ে নিজ দেশ ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছান। এই বক্তব্যটি তৎকালীন সময়ের অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্যকে স্পষ্ট করেছে।


এদিকে কনফারেন্সের প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জোরালো দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত সতর্ক ও কূটনৈতিক ভঙ্গিতে উত্তর দেন। তিনি জানান, এই প্রত্যর্পণ বা আইনি হস্তান্তরের পুরো বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা আলোচনার ওপর নির্ভর করে না; এটি পুরোপুরি একটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে এবং আইনি নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলছে। যেহেতু এই বিষয়ের সঙ্গে দেশের আদালত, বিচার বিভাগ এবং নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও চুক্তি সরাসরি জড়িত, তাই এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আগাম টাইমফ্রেম বেঁধে দেওয়া বা ঘোষণা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।


বহুচর্চিত এই সম্মেলন এবং ভারতীয় দূতের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন এই ঘটনার পরবর্তী মোড় কোন দিকে গড়ায়, সেটাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দীনেশ ত্রিবেদীর এই খোলামেলা অভিব্যক্তি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর