রাজধানীর
অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন দিন দিন এক ভয়াবহ রূপ
ধারণ করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিন পর্যন্ত এই বিশেষায়িত হাসপাতালে
তিন হাজারেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রাণ
হারিয়েছেন ৪২ জন মানুষ।
বিশেষ
করে গত সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে
ডেঙ্গুর সংক্রমণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল
যে, অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে
কেবল এক মাসেই রেকর্ড
সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভিড় করেছেন। বর্ষার মৌসুমে এডিস মশাবাহিত এই রোগটির বিস্তার
রোধে নানামুখী সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও মাঠপর্যায়ে এর ভয়াবহতা সাধারণ
মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একদিকে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং অন্যদিকে ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের
মুখে ফেলে দিয়েছে।
ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে প্রবেশ করলেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন ভবনের চতুর্থ, পঞ্চম ও সপ্তম তলার
ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড তথা ৪০২, ৫০২ এবং ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট এই ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ
ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রতিদিন যেভাবে নতুন রোগীর স্রোত বাড়ছে, তাতে বেড সংকুলান করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। শুধু রোগী নয়, প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন বা এটেন্ডেন্ট উপস্থিত
থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম হচ্ছে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ প্রতিটি ভর্তি রোগীকে সুরক্ষার জন্য মশারি সরবরাহ করলেও গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশের
অজুহাতে রোগীরা অনেক সময় সেই মশারি টানাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে একদিকে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা, অন্যদিকে অসচেতনতার কারণে রোগীর পাশাপাশি স্বজনদের মধ্যেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
গাজীপুর
থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসা ১৮ বছর বয়সী
তরুণ ফারহান তার অসুস্থতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, নিজ এলাকায় বেশ কিছুদিন উচ্চ জ্বরে ভোগার পর অবস্থার অবনতি
হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রক্তের প্লাটিলেট আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেও হাসপাতালের পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। হাসপাতাল থেকে মশারি সরবরাহ করা হলেও তা যথাযথভাবে টানানোর
উপযুক্ত ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ
করেন তিনি। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আসা আফরোজা আক্তার নামের এক নারী।
তিনি
জানান, কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বর থাকার পর পরীক্ষাগারে ডেঙ্গু
পজিটিভ ধরা পড়লে তিনি এখানে ভর্তি হন। ক্রমাগত বমির কারণে তিনি মুখে কোনো খাবারই গ্রহণ করতে পারছেন না। হাসপাতালের স্যালাইনের ওপর ভরসা করে তার দিন কাটছে। ভর্তির সময় তার রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ এক লাখের নিচে
নেমে গিয়েছিল, যা চিকিৎসায় কিছুটা
বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালের ওয়াশরুমগুলোর চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থা
তাকে দারুণভাবে কষ্ট দিচ্ছে। মশারি থাকতেও কেন তা ব্যবহার করছেন
না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওয়ার্ডের ভেতরে অতিরিক্ত রোগীর ভিড় এবং ভ্যাপসা গরমের কারণে মশারি টানালে ভেতরে বাতাস চলাচলের কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে বাধ্য হয়েই গরমে কষ্ট সহ্য করে তাদের থাকতে হচ্ছে।
নতুন
ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিবেদিত এই ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি
হওয়া প্রতিটি রোগীর জন্য পর্যাপ্ত মশারির পূর্ণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু রোগীরা বিভিন্ন অজুহাতে তা ব্যবহার করতে
চান না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, রোগীরা যদি নিজ দায়িত্বে মশারি ব্যবহার না করেন, তবে
তাদের সেবায় নিয়োজিত স্বজন বা এটেন্ডেন্টদেরও ডেঙ্গু
মশার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরিসংখ্যানের
দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৮৫
জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২ হাজার ১৮১
জন রোগী। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৫৯৭ জন রোগী চিকিৎসকদের
পরামর্শ বা ছাড়পত্র না
নিয়েই নিজেরাই রিসবন্ড বা ডিওআরবি স্বাক্ষর
করে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। তুলনামূলকভাবে চলতি বছরের এই মৃত্যুর সংখ্যা
গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও সংক্রমণের
গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত শঙ্কা জাগানিয়া। ইতিপূর্বে ২০২৫ সালে ঢামেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১১৮ জন এবং ২০২৪
সালে ৯৫ জনের মৃত্যু
হয়েছিল। অর্থাৎ বিগত দুই বছরে শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ২১৩টি তাজা প্রাণ।
চলতি
বছরের মাসওয়ারী বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম ছিল। বছরের
প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৪৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে
২৬ জন, মার্চে ৩০ জন, এপ্রিলে
৪১ জন, মে মাসে ৭৫
জন এবং জুনে ১২২ জন রোগী হাসপাতালে
চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে জুলাই মাস থেকে আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনের
সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করে। ওই মাসে হঠাৎ
করেই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭২ জনে দাঁড়ায়। এরপর আগস্ট মাসে এই সংখ্যা দ্বিগুণ
হয়ে ৮৪৪ জনে পৌঁছায় এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা রেকর্ড ভেঙে
১ হাজার ৪০৩ জনে গিয়ে ঠেকে।
অর্থাৎ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসটি ছিল ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ। এছাড়া অক্টোবরের প্রথম তিন দিনের হিসাব অনুযায়ী আরও ১২৭ জন নতুন রোগী
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই তিন দিনে
৬৬ জন রোগী সুস্থ
হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, ৩১ জন নিজ
দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং ৪০২ ও ৫০২ নম্বর
ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জন রোগীর মর্মান্তিক
মৃত্যু ঘটেছে।
গত
তিন বছরের সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডেঙ্গুর ভয়াব্যতা প্রতি বছরই বিভিন্ন মাত্রায় হানা দিচ্ছে। ২০২৪ সালে ঢামেকের বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোতে মোট
৩ হাজার ৪০৯ জন ডেঙ্গু রোগী
ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছরের মাসভিত্তিক
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৬৫, ফেব্রুয়ারিতে ২৪, মার্চে ১৮, এপ্রিলে ৩৭, মে মাসে ৪৭,
জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ১৪৪, আগস্টে ৩৪৬, সেপ্টেম্বরে ৭৯৪, অক্টোবরে ৮৮২, নভেম্বরে ৬৭৮ এবং ডিসেম্বরে ৩০৮ জন রোগী ভর্তি
হয়েছিলেন। একইভাবে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৮৮৮
জন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। ওই বছরের জানুয়ারিতে
৭১, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২৪, এপ্রিলে ৩৫, মে মাসে ৭২,
জুনে ২২৯, জুলাইয়ে ৩৯৯, আগস্টে ৫৩৪, সেপ্টেম্বরে ৬৯৬, অক্টোবরে ৭৬২, নভেম্বরে ৭৭৯ এবং ডিসেম্বরে ২৬৫ জন রোগী চিকিৎসা
নিয়েছিলেন। আর চলতি ২০২৬
সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৫
জন রোগীর ভর্তি হওয়া প্রমাণ করে যে, মৌসুম পরিবর্তন হলেও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ
ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সফল হচ্ছে না।
মৃত্যুর
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ২০26 সালের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু
হলেও ফেব্রুয়ারিতে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মার্চ মাসে ২ জন মারা
গেলেও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। এরপর মে মাসে ২
জন, জুনে ১ জন, জুলাইয়ে
১০ জন এবং আগস্টে
১০ জন মারা যান।
কিন্তু সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে। এরপর
অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে আরও ২ জনের মৃত্যু
হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি
বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত
ডেঙ্গুতে মোট ৪২ জনের প্রাণহানি
ঘটেছে। তুলনামূলকভাবে গত দুই বছরের
চিত্র ছিল আরও মারাত্মক। ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট ১১১৮ জন মারা যান,
যার মধ্যে কেবল অক্টোবরেই সর্বোচ্চ ২৫ জনের মৃত্যু
হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালে মোট ৯৫ জন মারা
যান এবং ওই বছরের অক্টোবরে
২৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সর্বশেষ
৩ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার
ব্যবধানে ঢামেকে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১২৭ জন রোগী ভর্তি
হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ জন এবং
৩১ জনকে নিজ দায়িত্বে ডিসচার্জ বা ডিওআরবি করা
হয়েছে। চলমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী
চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমান ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ, ৮৯
জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু
রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট
যে সমাজের সব বয়সের মানুষই
এই মরণব্যাধির শিকার হচ্ছেন।
বয়সভিত্তিক
আক্রমণের বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০
বছর বয়সী যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বয়সসীমার মোট
৮৬২ জন রোগী হাসপাতালে
চিকিৎসা নিয়েছেন। এর পরেই রয়েছে
১১ থেকে ২০ বছর বয়সী
যুব ও কিশোররা, যাদের
সংখ্যা ৬২২ জন। এছাড়া ৩১ থেকে ৪০
বছর বয়সী ৫৬৪ জন, ০ থেকে ১০
বছর বয়সী ৩৭৫ জন শিশু, ৪১
থেকে ৫০ বছর বয়সী
৩২৭ জন, ৫১ থেকে ৬০
বছর বয়সী ২০৫ জন, ৬১ থেকে ৭০
বছর বয়সী ৯৪ জন, ৭১
থেকে ৮০ বছর বয়সী
২৭ জন এবং ৮০
বছরের বেশি বয়সী ৯ জন বৃদ্ধ
রোগী এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত
রয়েছেন। অন্যদিকে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী ৪২ জনের বয়স
বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ৪১ থেকে ৫০
বছর বয়সী ৯ জনের মৃত্যু
হয়েছে, যা যেকোনো একক
বয়সশ্রেণীতে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ২১
থেকে ৩০ বছর বয়সী
৭ জন, ৩১ থেকে ৪০
বছর বয়সী ৬ জন, ০
থেকে ১০ বছর বয়সী
৫ জন শিশু, ১১
থেকে ২০ বছর বয়সী
৫ জন, ৫১ থেকে ৬০
বছর বয়সী ৫ জন, ৬১
থেকে ৭০ বছর বয়সী
৪ জন এবং ৭১
থেকে ৮০ বছর বয়সী
১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে আশার বিষয় হলো, ৮০ বছরের বেশি
বয়সী কোনো রোগীর মৃত্যুর রেকর্ড এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে
ডেঙ্গু রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ, শয্যা সংকট এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম
ফরহাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ডেঙ্গু রোগী সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের তথ্য বা পরিসংখ্যান গণমাধ্যমের
সামনে তুলে ধরার জন্য ডা. আশরাফুল আলমকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এই
বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা.
আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা
পাওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের
মতে, শুধুমাত্র হাসপাতালমুখী চাপ সামলানোই নয়, বরং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাসা-বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ
পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।