ক্রীড়া ডেস্ক
উয়েফা নেশনস লিগে দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেলের শিষ্যরা রিজেকার মাঠে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে। ব্রিটিশ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই টুখেলের সবচেয়ে বড় জয়। এই জয়ে নেশনস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করল থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ইংল্যান্ড। মাত্র অষ্টম মিনিটে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা অ্যালেক্স স্কটের পাস থেকে জুড বেলিংহ্যাম বল বাড়ান হ্যারি কেইনের উদ্দেশ্যে। বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক কেইন। খেলার একুশ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম। অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার ক্রস থেকে পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান তিনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক ছয় মিনিট আগে, অর্থাৎ ৩৯তম মিনিটে জ্যারেল কুয়ানসাহর ক্রসে হেডে গোল করে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন গর্ডন। এটি ছিল ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার শেষ চার ম্যাচে চতুর্থ গোল। বিরতির ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান ৪-০ করেন বুকায়ো সাকা। ফলে প্রথমার্ধেই বড় জয় নিশ্চিতের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ক্রোয়েশিয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়ে আক্রমণে ধার বজায় রাখে ইংল্যান্ড। ৫৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক স্লাইডিং ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি আদায় করে নেন হ্যারি কেইন। এর কিছুক্ষণ পর, ৬৮তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আর্সেনাল উইঙ্গার সাকা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, ৮৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মর্গান রজার্স গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলের সপ্তম ও শেষ গোলটি করেন। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা জুড বেলিংহ্যাম একাই তিনটি গোলে সহায়তা করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচের মধ্যে এটি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের দৌড়ে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল টুখেলের দল। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পথে এই বিশাল ব্যবধানের জয় ইংলিশদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।