ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর দলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এই দৌড়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা এম. কফিল উদ্দিন আহমেদের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে আপসহীন ভূমিকা এবং ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে ঘিরে দলের ভেতর ও বাইরে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
১৯৬৯ সালের ১ এপ্রিল ঢাকা জেলার উত্তরা এলাকার ফায়দাবাদে জন্মগ্রহণ করা এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে কলেজ ছাত্রনেতা হিসেবে সাহসী ভূমিকা রেখে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং একই কলেজের জিএস ও ভিপি হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং বৃহত্তর উত্তরা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব সফলভাবে সামলেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবেও জোরালো পরিচিতি রয়েছে কফিল উদ্দিন আহমেদের। ২০০২ সালে তৈরি পোশাক বা রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের হাত ধরে তিনি ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন স্বনামধন্য ‘রশিদ গ্রুপ’-এর অধীনে ১২টিরও বেশি শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জে.এফ.কে ফ্যাশন লিমিটেড, রশিদ অটো ব্রিকস লিমিটেড ও এফ কে গ্রীন ফ্যাশন লিমিটেড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) এবং এফবিসিসিআই (FBCCI)-এর সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি নানা সমাজকল্যাণমূলক ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমেও এলাকায় ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘রশিদ ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। শিক্ষার প্রসারে ফায়দাবাদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করেছেন। করোনাকালে মহামারির কঠিন সময়েও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী, খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করে অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাঁর বহুমুখী অবদান রয়েছে।
দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে চরম প্রতিকূলতা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান কফিল উদ্দিন আহমেদ। তাঁর দাবি, বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫৬টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মিথ্যা মামলার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় নিজের এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেননি। এমনকি দুটি পৃথক মামলায় তাঁকে যথাক্রমে ১০ বছর ও ৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও।
দলের নতুন নেতৃত্ব ও সভাপতি পদের প্রত্যাশার বিষয়ে এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমি দীর্ঘযাবৎ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই পথচলায় আমার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার জীবনের সবকিছুই এই দলের জন্য উৎসর্গ করেছি। আমি আশাবাদী, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, জেল-জুলুম ও আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন করবেন।” শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিতে কার হাতে নেতৃত্ব উঠবে, তা এখন শুধু কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।