ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসার প্রাণ হারিয়েছেন। সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ট্রাক সামনে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর করুণ মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় ঘাতক ট্রাকের চালক আহত অবস্থায় আটক হয়েছেন এবং দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের ফেনীর ফতেহপুর স্টার লাইন পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলমগীর হোসেন (৪৬) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে প্রেষণে এসআরবি-৭-এ কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শান্তিবাগ গ্রামে; তিনি মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের সন্তান। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে এসআরবি-এর একটি দল মহাসড়কে নিয়মিত ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করার পাশাপাশি এর ঠিক পেছনে থাকা একটি ট্রাককে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাকটির চালক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সংকেত সম্পূর্ণরূপে অমান্য করে থামানো কাভার্ডভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এ সময় আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের বাম পাশে কর্তব্যরত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা এসআরবি সদস্য মো. আলমগীর হোসেনকে সজোরে চাপা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গভীর গর্তে গিয়ে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় এসআরবি সদস্য আলমগীর হোসেন এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটির চালক মো. সজিবকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মো. আলমগীর হোসেনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ঘাতক ট্রাকের আহত চালক মো. সজিব বর্তমানে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. নোমান গণমাধ্যমকে জানান, নিহত সেনা কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষায় ও দায়িত্ব পালনকালে একজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্যের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনায় বিধি অনুযায়ী সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। মহাসড়কে রাতের বেলা তল্লাশি কার্যক্রমের সময় নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।