নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন পেতে যাচ্ছেন। তবে কার অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা বকেয়া যুক্ত হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ প্রক্রিয়ার ওপর। অর্থ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আগামী সোমবার থেকে অনলাইনে হিসাব শুরু হচ্ছে, যা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের এই নতুন বেতন নির্ধারণের কাজটি সম্পন্ন হবে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) পোর্টালে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাকরিজীবীদের অনলাইনে পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতন। পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যগুলোর সঙ্গে নতুন তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। কারও যদি পদোন্নতি, বদলি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ইতিহাস থাকে, তবে সেগুলোর স্বপক্ষে দাপ্তরিক আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। তথ্য প্রদানে কোনো ধরনের ভুল বা অসম্পূর্ণতা থাকলে পে ফিক্সেশনের কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই বেতন-ভাতা কার্যকর করা হচ্ছে। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে ৭০ শতাংশ এবং ওই বছরের ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এই বকেয়া ও নতুন স্কেলের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অনলাইনে চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করবে। দাখিলকৃত তথ্য ও নথিপত্রের মধ্যে কোনো ধরনের অসংগতি বা গরমিল পাওয়া গেলে তা সংশোধন করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেন্থেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট টু এনেবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে পরবর্তী মাসের বেতন বিল ও বিগত মাসগুলোর বকেয়া টাকার চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত করা হবে।