ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

১৯ বছর আগে চাকরি, আইসিটি সনদ পেলেন ২০২৩ সালে


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১৬ পিএম

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার মঠবাটি জি.জি.পি.জি দাখিল মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক মো. রবিউল সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ২০০৪ সালে চাকরি পেলেও এর প্রায় দুই যুগ পর ২০২৩ সালে এসে আইসিটি বিষয়ের মূল এক বছরের সনদ অর্জন করেছেন। চাকরি পাওয়ার দীর্ঘ ১৯ বছর পর যোগ্যতার সনদ পাওয়ার এই ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, মো. রবিউল সরদার ২০০৪ সালে মঠবাটি জি.জি.পি.জি দাখিল মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং অদ্যাবধি বহালতবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন। অথচ তাঁর কম্পিউটার বা আইসিটি বিষয়ের মূল এক বছরের অর্জিত সনদটি এসেছে সাতক্ষীরার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সুন্দরবন ইনস্টিটিউট’ থেকে ২০২৩ সালে। প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৪ সালে নিয়োগ পাওয়ার সময় তাঁর ন্যূনতম আইসিটি যোগ্যতা কী ছিল এবং কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন? চাকরিতে যোগদানের দুই দশক পর সনদ অর্জিত হলে তা ২০০৪ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে বৈধ হয়, তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এস এম আমিনুল ইসলামের ভাষ্যমতে, রবিউল সরদারের এই বিতর্কিত নিয়োগ ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত করেছিল। ডিআইএ পরিদর্শক তাঁর সনদ যাচাই করার পর বড় ধরনের আপত্তি তোলেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নোটিশও জারি করা হয়েছিল। তবে কোন অদৃশ্য ইশারায় সেই ফাইল ও নোটিশের কার্যকারিতা থমকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।


এত বড় অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীনের নির্লিপ্ত বক্তব্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, “নিয়োগের সময় প্রার্থী যে যোগ্যতা নিয়ে যদি পূর্বে যাচাই হয় তাহলে এটা নিয়ে আমি ইন্টারেস্টেড না। এছাড়াও তিনি বেতন পান তাহলে কোন সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না।” এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহল ও যোগ্য বেকার যুবকদের চরম হতাশ করেছে। যেখানে হাজার হাজার শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত তরুণ বেকার সার্টিফিকেট হাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, সেখানে ভুঁইফোড় কায়দায় পরবর্তীতে সনদ বাগিয়ে নিয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখার এই সংস্কৃতি শিক্ষাব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে।


এদিকে অভিযুক্ত রবিউল সরদার নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় আইসিটি যোগ্যতা না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তখন দেওয়া সনদটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের বিষয়টি তিনি জানতেন না এবং এমন হবে বুঝতেও পারেননি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ২০২৩ সালে আইসিটি বিষয়ে কোর্স করে সনদ নেন। তাঁর দাবি, এর আগেও তিনি বাইরে থেকে একটি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।


এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে অবিলম্বে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের জোরালো দাবি হলো—প্রথমত, ২০০৪ সালের মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন এবং সিলেকশন বোর্ডের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, ডিআইএ-র পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নোটিশের বিষয়টি জনসমক্ষে উন্মোচন করা। তৃতীয়ত, অবৈধ নিয়োগ ও ভুয়া যোগ্যতার বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ পর্যন্ত উত্তোলিত সরকারি বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা। প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মেধাবী ও যোগ্য চাকরিপ্রত্যাশীর ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর