ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের গৃহবধূ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১৮ পিএম

দালালের প্রলোভনে পড়ে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে চরম অমানুষিক নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার মর্মান্তিক অভিযোগ করেছেন রেহেনা খাতুন নামে এক বাংলাদেশি গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকার একটি বাসায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারী এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সৌদি আরব থেকে গোপনে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে নিজের চরম দুর্দশার কথা জানান রেহেনা। ভিডিওবার্তায় তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছি। আমাকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অসুস্থ। মনে হচ্ছে, বাঁচব না। বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।” হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা আলী আহমদের স্ত্রী তিনি।


পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকেই রেহেনাকে দিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে এবং নিয়মিত কোনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথও প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী দেশে ফিরে আসতে চাইলে দালাল চক্র তাঁর পরিবারের কাছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ বা খরচ দাবি করছে। অসহায় স্বামী আলী আহমদ তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ শরীরে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর নেপথ্যে জড়িত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন। অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে ফিরিয়ে আনানো সম্ভব, কারণ চাইলেই সৌদি আরব থেকে হুট করে চলে আসা যায় না। অন্যদিকে, ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জেনিয়া ওভারসিজ’-এর কর্মকর্তা হাসান মিয়া সমস্ত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে ওই নারী কোনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হননি এবং দেশে ফিরতে চাইলে এজেন্সি নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও খরচ পরিশোধ করতে হবে।


এই অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল ও এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁর পরিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।


এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আবেদন হাতে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে দেশে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর