ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

হেসেখেলেই রিকশাচালক ইমনকে হত্যা: নেপথ্যে তিন কিশোরের তুচ্ছ অহংকার!


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:১২ এএম

রাজধানীর গাবতলীতে এক নিষ্ঠুর ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জন্মদিনের উদযাপনের পর নিজেদের 'গুরুত্বপূর্ণ' প্রমাণ করতে এবং সস্তা সুইচগিয়ার ছুরির মহড়া দিতে হেসেখেলেই এক রিকশাচালক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে তিন কিশোর। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) গোয়েন্দা বিভাগ এবং দেশের তিন আলাদা জেলা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুচ্ছ অহংকার ও বিকৃত মানসিকতার জেরে সংঘটিত এই পৈশাচিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, দারুস সালামের বাগবাড়ি এলাকার একটি চায়ের দোকানে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় সিসিটিভির ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যায়, ফারদিন, জিহাদ ও সাঈদ নামের তিন কিশোর চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় সেখানে রিকশাচালক ইমন চা পান করতে আসেন। নিহতের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বশত্রুতা বা আর্থিক লেনদেন না থাকলেও আকস্মিকভাবে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

 

মুহূর্তের মধ্যেই ওই তিন কিশোর ইমনকে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় ও বেধড়ক মারধর করতে থাকে। আশপাশের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা পকেট থেকে সুইচগিয়ার ছুরি বের করে ইমনের শরীরে প্রাণঘাতী আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার পর অজ্ঞাত হিসেবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইন্টারনেটে লাশের ছবি দেখে পরবর্তীতে নিহতের মা মোছাম্মদ কাকলী সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে সন্তানের মরদেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের স্বজনরা জানান, ইমন কঠোর পরিশ্রম করে রিকশাচালানোর পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। তার সঙ্গে কারোরই শত্রুতা থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে ঘটনার পরেই ছায়াতদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তা নিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন কিশোরকে ঢাকা, ভোলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ডিসি রাকিব খান জানান, ঘটনার দিন সাঈদের জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ করার পর তারা সকলে ফের একত্রিত হয়। এর মাত্র দুই দিন আগে অভিযুক্ত সাঈদ ফুটপাত থেকে মাত্র ৬৫০ টাকা দিয়ে একটি সুইচগিয়ার বা ফোল্ডিং ছুরি কিনেছিল। সমাজে বা বন্ধুদের মাঝে নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবার এক অসুস্থ মানসিকতা থেকেই মূলত তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। রিকশাচালক ইমনের উত্তর পছন্দ না হওয়ায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই নৃশংস খুন করে। কোনো সুনির্দিষ্ট ও বড় কোনো কারণ ছাড়াই নিছক খেয়ালের বশে এমন নির্মম খুনের ঘটনায় পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর