ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েল নির্বাচনে আরবদের চমক: কারচুপির অভিযোগে সরব লিকুদ পার্টি দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের নতুন সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক? ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে শুরু হলো ভোটগ্রহণ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

প্রেস ক্লাবের সামনে অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১:১৪ পিএম

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শত শত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার পর থেকে হঠাৎ করেই এই আকস্মিক সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হলে পল্টন, মৎস্য ভবন ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। চার্জিং স্টেশনের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার তীব্র প্রতিবাদ এবং চালকদের ওপর চলমান নানামুখী পুলিশি হয়রানি বন্ধের সুনির্দিষ্ট দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। আন্দোলনকারী চালকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে না নেওয়া হলে তারা রাস্তা থেকে সরে যাবেন না।

 

এই অভিনব ও কঠোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে সকাল থেকেই সম্পূর্ণ অটোশূন্য পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাটারিচালিত এই সাশ্রয়ী যানের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েন পেশাজীবী চালকরাও। চালকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা পুনর্বাসন ছাড়াই হঠাৎ করে গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের দৈনিক আয়ের উৎস ও রুটি-রুজির ওপর সরাসরি বড় ধরনের আঘাত। এছাড়া প্রতিদিনের ট্রাফিক তল্লাশির নামে জরিমানা, হয়রানি এবং অযথা গাড়ি আটকের কারণে তাদের জীবনধারণ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

 

হঠাৎ সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রমনা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না পারে, সেজন্য পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুশৃঙ্খল ও ধৈর্যশীল ভূমিকার কারণে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। টানা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখার পর পুলিশের সঙ্গে আলোচনা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দুপুরের দিকে চালকরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান, যার ফলে ধীরে ধীরে ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে। আমাদের পেটে এভাবে লাথি মারা বন্ধ করতে হবে। অটোরিকশা চালকদের অকারণে প্রতিনিয়ত নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

আমাদের দেশে লাখ লাখ দরিদ্র অটোচালক রয়েছে, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রিকশা চালিয়ে নিজেদের ও পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এই পেশাকে ধ্বংস করার গভীর চক্রান্ত চলছে।” চালকদের এই জোরালো আন্দোলন ও পেশাগত সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর