জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে চলতি বছরের মধ্যেই ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের অন্তত একটি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ হস্তান্তরের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত মাইলফলক। বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীদের মাত্র বিশ শতাংশ বিমান ব্যবহার করেন, আর প্রায় আশি শতাংশ যাত্রী অন্যান্য বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। এই ঘাটতি পূরণে এবং বহরের অপ্রতুলতা দূর করতে ২০২৬ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য এয়ারবাসের শীর্ষ কর্মকর্তার প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিমানমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশে একটি আধুনিক মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল বা এমআরও সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে কার্গো ও মেইল পরিবহনে আরোপিত দীর্ঘদিনের উচ্চঝুঁকি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করতে ইইউর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক স্কোর অর্জন করায় কার্গো রপ্তানির পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না, বরং প্রতিটি পদক্ষেপে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।