ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৭ নভেম্বর ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৫০ এএম

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন শিক্ষাক্রমের বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

 

মূলত বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা—এই তিনটি প্রধান বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে অন্তত ১৪টি নতুন সংযোজন ও সংশোধন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নানা দিক। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তন মূলত বিদ্যমান বইয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় সংযোজন ও সংশোধনের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে, তবে শিক্ষাক্রমের বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে ২০২৮ সালে।

 

নতুন পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিসর আরও সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান সংযোজন হিসেবে থাকছে জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভল্ট’ বিদ্রোহের ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাসংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিষয়াবলি। এই তথ্যগুলো তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।

 

পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতৃবৃন্দ’ শীর্ষক অধ্যায়ে যুক্ত করা হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনী। পাশাপাশি, নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক অংশটি অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কাঠামোগত ইতিহাস তুলে ধরতে ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত লেখা এবং অষ্টম শ্রেণির বইয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ ব্রিগেড বাহিনী’ সংক্রান্ত পাঠ সংযোজন করা হচ্ছে। এছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পর্যায়গুলো সম্পর্কেও বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

 

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথার পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোও নতুন বইয়ে স্থান পাচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চতর শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ধাপে ধাপে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতা বিপ্লব’ সম্পর্কিত ঐতিহাসিক আলোচনা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদান নিয়ে বিশেষ পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

 

শিক্ষাক্রমের এই নতুন বিন্যাসে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে ‘শহীদ আনাসের গল্প’ এবং নবম ও দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ। ইতিপূর্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন যে, শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা, আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, নারী সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং এই আন্দোলনের সামগ্রিক ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পাঠ্যক্রমে তুলে ধরা হবে।

 

এ ছাড়াও নবম ও দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন নেতিবাচক ও বিতর্কিত অধ্যায় যেমন—গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অর্থপাচার, ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর বিষয়গুলোও বস্তুনিষ্ঠভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী সংস্কার উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর