আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশজুড়ে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস’। তামাক ও নিকোটিনের ভয়াল থাবা থেকে শিশু ও তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর জোরালো দাবির মুখে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ্য, দেশে ২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় ধানমন্ডির আবাহনী খেলার মাঠের সামনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের উদ্যোগে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সেমিনার ও মানববন্ধনের মতো নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশে ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ চরম আকার ধারণ করেছে। ক্যানসারের মতো জীবনঘাতী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা তুলে ধরে জানানো হয় যে, দেশের প্রায় ৭ হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ইতোমধ্যে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের মরণনেশা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি ও অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
তামাকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং অন্যান্য নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আইন সংশোধনের বিভিন্ন পর্যায়ে সুকৌশলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি বাতিল করা হয়, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।